৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,রাত ৮:২৩

শিরোনাম
নাজমুল হুদা সাগরের রোগমুক্তি কামনায় খুলনায় ১৭নং ওয়ার্ড যুবদল নেতৃবৃন্দের দোয়া নাজমুল হুদা সাগরের রোগমুক্তি কামনায় খুলনায় দোয়া অনুষ্ঠিত নাজমুল হুদা সাগর ও তাঁর মায়ের সুস্থতা কামনায় খুলনায় বিশেষ দোয়া খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষক কমিটির খুলনা জেলা প্রশাসনের সার্ভার রুমে আগুন ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত খুলনা শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির মানববন্ধন খুলনায় বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে সাবানা বেগমের সংবাদ সম্মেলন মংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে -মবক চেয়ারম্যান

মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের ধাক্কা, শুঁটকি উৎপাদন ব্যাহত

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

আলী আজীম, মোংলা : বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন জেলেরা। লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরে ব্যাহত হচ্ছে মাছ আহরণ। মৌসুমের প্রথম দিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী পড়েছেন বিপাকে।

মাছ ধরতে সাগরে যেতে না পারা, নতুন ঘর ও শুঁটকি তৈরির স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারা ও রোদের অভাবে মাছ শুকাতে না পারায় অনিশ্চয়তায় এসব জেলেদের মৌসুমি জীবিকা।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ঋণ নিয়ে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির উদ্দেশ্যে দুবলার চরে আসা জেলেরা এখন সংসারের খরচ জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলেরা জানান, প্রতিবছর শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহেরআলীসহ বিভিন্ন চরে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী সমবেত হন। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে তাদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ জন্য মৌসুম শুরুর সময়ে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চরে পৌঁছে অস্থায়ী বসতঘর, মাছ শুকানোর মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেন। কিন্তু এবার শুরুতেই বৈরী আবহাওয়া তাদের সব প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলেরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জেলেদের নতুন ঘর নির্মাণ ও শুঁটকি তৈরির অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে অনেক জেলে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেননি। কেউ কেউ উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরলেও রোদের অভাবে সেই মাছ শুকাতে পারেননি। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে।

জেলেদের জীবিকার বড় ভরসা সাগরের মাছ। পাঁচ মাসের মৌসুমে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়া, দস্যুদের চাঁদা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকেন তারা

দুবলার চর জেলে পল্লীর সিও (ইনচার্জ) ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, ‍বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে মৌসুমের শুরুতে এখানে আসা জেলেরা মাছ আহরণ ও বসবাসের জন্য নতুন ঘর তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলেদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ঋণের বোঝার কারণে। মৌসুমে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির খরচ জোগাতে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ধারদেনা নিয়ে দুবলার চরে এসেছেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করে বিক্রি করবেন এবং সেই আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে যেতে না পারা এবং মাছ শুকানোর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধেও সংকটে পড়তে পারেন তারা।

অন্যদিকে, শুঁটকি মৌসুম ঘিরে বন বিভাগ এবারের মৌসুমে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। জেলেদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন কমে গেলে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন