প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬

তথ্য প্রতিবেদক : দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মোঃ রেজাউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কোন অনিয়ম হয়েছে কি না তা জানতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করেন দুদক কর্মকর্তাগণ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা ওয়াসা ভবনে এ অভিযান চালায় দুদক। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত নন। তাকে ফাঁসাতে একটি মহল অনেক আগে থেকেই তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এটা তারই একটা অংশ।
দুদক ও ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর রুটিন দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ২০২৫ সালে প্রকল্প পরিচালক হন। ওই সময় পদটি পেতে একটি প্রভাবশালী মহলকে প্রায় ৯০ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুলনা ওয়াসার গ্রাহকদের ৫ হাজার গৃহসংযোগ পাইপ ও ফিটিংস স্থাপন কাজের চূড়ান্ত বিলে একই সংযোগে দ্বিতীয়বার বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে রেজাউল ইসলামকে শোকজ করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
এ বিষয়ে দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ জাহিদ ফজল বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এর দায়িত্বে ছিলাম। যে কাজ এখনও শুরু হয়নি সেই কাজের দুর্নীতি হয় কি করে? তিনি আরও বলেন, ৯০ কোটি টাকার যে চেকের কথা বলা হয়েছে সেই চেকের জন্য তো কেউ কোন কিছু দাবি করেনি। আমিও ওই চেকও দেইনি।
৫ হাজার গৃহসংযোগ পাইপ ও ফিটিংস স্থাপন কাজের চূড়ান্ত বিলের বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, ওই কাজে উপ সহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীগণ ভুল করেছিলো। তাদেরকে শোকজ করা হয়। কর্তৃপক্ষ পরে আমাকে শোকজ করে। আমি সেই বিষয়টি সঠিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এই কাজের কোন বিল এখনও পরিষোধ করা হয়নি।
যারা প্রকল্প পরিচালক হতে চাইছেন তারা এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন বলেও জানান মোঃ রেজাউল ইসলাম।