১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,রাত ১১:১৫

শিরোনাম
৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত খুলনা শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির মানববন্ধন খুলনায় বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে সাবানা বেগমের সংবাদ সম্মেলন মংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে -মবক চেয়ারম্যান নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডে নির্মিত হলো টাগবোট ‘টিয়াখালী ক্ষোভের তীর সারজিসের দিকে, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা বাবুলের শিক্ষার্থী আজমুল হত্যায় মামলার তিন আসামী গ্রেপ্তার খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র আয়োজনে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে সহায়ক উপকরণ হস্তান্তর খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক শিশুশ্রম, ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা

আমরা সেই হারানো খুলনাকে ফিরিয়ে আনতে চাই-মঞ্জু

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিবেদক : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনা একটি সমৃদ্ধ নগরী। বন্দর ও শিল্প নগরী হিসেবে খুলনা দেশজুড়ে সমাদৃত ছিল। মানুষ এ শহরে আসলে আর ফিরে যায়নি, এখানেই স্থায়ী হয়ে থেকে গেছেন। কর্মসংস্থানের সংকট, মাদক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের সম্ভাবনার দুর্বল দিক হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা সেই হারানো খুলনাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।

কেসিসি প্রশাসক আজ বুধবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘‘খুলনা নগর অঞ্চলের জন্য শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল ২০৫০’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘কাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট (সিসিএইউডি) প্রোগ্রাম (ফেস-২) প্রকল্পের আওতায় কনসালটেন্সী সংস্থা একোম্প্যানিং মেজর কনসালট্যান্ট (এএমসি) এ বৈঠকের আয়োজন করে। বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞগণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

খুলনার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, আমরা নতুন একটি যাত্রা শুরু করেছি। এই যাত্রা শুরুর সময়ে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে আজকের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনা অনগ্রসর থাকার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পলিসি গ্রহণের স্থানসমূহে এখানকার নেতৃত্ব পৌঁছাতে পারে না। সে কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহযেগিতার প্রয়োজন পড়ে। তাই খুলনা উন্নয়নের খাতগুলি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে নিজস্ব এখতিয়ার ও সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে খুলনা নগর অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ও বর্তমান বাস্তবতা উত্তরণে কেসিসি’র বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ; কেসিসি, কেডিএ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের একত্রে কাজ করাতে সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে কেসিসি কি ধরণের বাস্তব উদ্যোগ শুরু করতে পারে বা নেতৃত্ব দিতে পারে, বাস্তবায়নে কী সিদ্ধান্ত, অংশীদারত্ব ও সম্পদ প্রয়োজন হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ও কেসিসি’র করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বর্তমান ও ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই কৌশল ২০৫০ সাল পর্যন্ত খুলনার উন্নয়নের পথ দেখাবে। কোন কাজ আগে করা প্রয়োজন, কোন প্রতিষ্ঠান কি দায়িত্ব পালন করবে এবং কখন তা বাস্তবায়ন করা হবে সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকবে। অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজগুলি বাস্তবায়নে আনুমানিক কত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং কোন কোন উৎস থেকে সেই অর্থের সংস্থান করা যেতে পারে তারও দিকনির্দেশনা থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. নিশাদ নাসরিন, আমাম সি ফুডস লি: এর চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদরুল আলম মার্কিন, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জাহিদ হোসেন, পাগমার্ক ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-এর স্বত্ত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, বাস্তুকল্প আর্কিটেকটস লিমিটেডের প্রধান এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর আনোয়ারুল কাদির, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-খুলনার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কুদরত-ই-খুদাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ গোলটেবিল বৈঠকে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন