১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,রাত ৮:৫৬

শিরোনাম
৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত খুলনা শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির মানববন্ধন খুলনায় বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে সাবানা বেগমের সংবাদ সম্মেলন মংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে -মবক চেয়ারম্যান নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডে নির্মিত হলো টাগবোট ‘টিয়াখালী ক্ষোভের তীর সারজিসের দিকে, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা বাবুলের শিক্ষার্থী আজমুল হত্যায় মামলার তিন আসামী গ্রেপ্তার খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র আয়োজনে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে সহায়ক উপকরণ হস্তান্তর খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক শিশুশ্রম, ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা

পুলিশ পরিদর্শকের উপর হামলা ও জেলা পুলিশের সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রসঙ্গে

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

খবর বিজ্ঞপ্তির : সম্প্রতি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশাযোগে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে মহানগরীর কলেজিয়েট স্কুলের নিকট তিনজন ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাঁর মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর উভয় হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার, খুলনা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাঁকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বল্পতার কারণে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে তাঁর উভয় হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে তাঁর দুই হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষত গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করার লক্ষ্যে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার, খুলনার স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি শুধুমাত্র খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়নি।

উল্লেখ্য, খুলনা জেলা পুলিশ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি থানায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন, অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খুলনা জেলা পুলিশের এসব তৎপরতার ফলে জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জারিকৃত নির্দেশনাটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এই নির্দেশনাটি শুধুমাত্র খুলনা জেলা পুলিশ সদস্যদের জন্য এবং এই সরল বার্তাটি নিয়ে কোন রকম অপতথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণের বিভ্রান্ত না করতে সকলকে অনুরোধ জানানো হলো। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে নির্দেশনাটি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুলনা জেলা পুলিশ দৃঢ় মনোবল ও পেশাদারত্বের সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা সম্পর্কে সৃষ্ট বিভ্রান্তি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে না। জনসাধারণকে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন