২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ৮:৪১

শিরোনাম
মংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে -মবক চেয়ারম্যান নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডে নির্মিত হলো টাগবোট ‘টিয়াখালী ক্ষোভের তীর সারজিসের দিকে, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা বাবুলের শিক্ষার্থী আজমুল হত্যায় মামলার তিন আসামী গ্রেপ্তার খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র আয়োজনে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে সহায়ক উপকরণ হস্তান্তর খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক শিশুশ্রম, ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা অপ্রতিম হত্যায় চার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ খুলনার নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুভেচ্ছা সফরে চীন নৌবাহিনী জাহাজের বাংলাদেশে আগমন

কয়রা সদরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসানকে ঘিরেই আলোচনা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মোস্তফা রেজানুল করীম, কয়রা : আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি বিএনপি নেতা এম এ হাসানকে ঘিরেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে সামনে রেখে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাঁকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এম এ হাসান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি খুলনা জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে এম এ হাসান তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে থাকার বিষয়টি তাঁর অনুসারীরা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন।

কয়রা সদর ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এম এ হাসানের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় মানুষের সমস্যা, উপকূলীয় এলাকার নানা সংকট এবং দলীয় সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে থাকেন বলেও তাঁরা জানান। এ কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও এম এ হাসানের সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও তাঁর বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়। অসুস্থ ও সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

সম্প্রতি সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে খুলনা জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়া কয়রা উপজেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দেন এম এ হাসান।

তবে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও এম এ হাসানের প্রার্থিতা এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনা ও নেতাকর্মীদের আগ্রহের মধ্যেই রয়েছে।

এম এ হাসান বলেন, “দলের আদর্শে বিশ্বাস রেখে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় এবং জনগণ পাশে থাকে, তাহলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সেবা এবং উপকূলীয় এই জনপদের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করব।”

কয়রা সদর ইউনিয়ন উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ রক্ষা, সুপেয় পানি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় আলোচনায় এসব সমস্যা সমাধানে তাঁদের পরিকল্পনা ও অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে কয়রা সদর ইউনিয়নের রাজনৈতিক মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এরই মধ্যে এম এ হাসানের নামও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও তাঁর অনুসারীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন