প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬

তথ্য প্রতিবেদক:
খুলনা শহরের জন্য জলবায়ু সহনশীলতা কৌশলকে সামনে রেখে ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও উন্মুক্ত স্থান বিষয়ক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নগরীর নতুন বাজারস্থ সিএসএস আভা সেন্টারের সভাকক্ষে সকাল ৯ টায় শুরু হয়ে দিনব্যাপী এ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা।
বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংকের (কেএফডব্লিউ) যৌথ অর্থায়নে খুলনা মহানগরীতে বাস্তবায়নাধীন “কাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেড আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (সিসিএইউডি) ফেজ-২’’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবিরুল জব্বার এবং ওয়ার্কশনের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন সিসিএইউডি এর টিম লিডার শেখ মোঃ মেহেদী আহসান। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন কেসিসির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার রাজিব আহমেদ, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান খান, কেডিএ’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাবিরুল আলম, আরবান সিকরেট স্পেশালিস্ট শেখ তৌহিদুর রহমান। এছাড়াও মোস্তফা শরিফ, তাহমিনা আক্তার ও উৎপল কুমার দাস সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়নের জন্য ভূমির সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন আমাদের সকলের জন্য ক্ষতিকর। সে কারণে বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, নগরীতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন অনেক জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে যেখানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরী হয়ে আছে। রাজধানীর হাতির ঝিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন অব্যবহৃত জায়গাগুলি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহারের আওতায় আনা গেলে শহরে নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য, সিসিএইউডি প্রকল্পের আওতায় নগরীতে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় দৌলতপুর ও মহেশ্বরপাশা শ্মশানঘাট এলাকায় নদী ভাঙন ও বন্যা রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, শহরের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান খাল পুনঃখনন এবং খালের দুই পাড় বাঁধাই ও সৌন্দর্যবর্ধন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে শহরের প্রায় ১৭ থেকে ২৩টি সরকারি পুকুর পুনঃখনন ও সংস্কার, সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক এবং রূপসা নদী সংলগ্ন ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও নতুন পাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং নগরীর বাস্তুহারায় দৃষ্টিনন্দন ও জলবায়ু সহনশীল পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় কেডিএ চেয়রম্যান এস এম শফিকুল আলম বলেন, নগরীর আবাসন সংকট দূর করার জন্য কেডিএ দশটি আবাসিক এলাকার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে বাড়ির নক্শার অনুমোদন দিয়ে থাকে। সম্প্রতি নক্শা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিটি বাড়িতে সোলার সিস্টেম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরালা দিঘীর পাড় বাঁধাই ও চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং দৌলতপুরের কল্পতরু মার্কেট ভেঙ্গে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। আগামী প্রজন্মের জন্য মহানগরীকে বাসযোগ্য করতে হলে দখল হওয়া প্রাকৃতিক খাল পুনরুদ্ধারের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে উদ্যোগী হতে এবং জেলা প্রশাসনককে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানান। কেসিসি ও কেডিএ যৌথভাবে কাজ করলে এ শহরকে একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।