প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬

তথ্য প্রতিবেদক : দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই)-এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশে নির্বাচনের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই মেসার্স বদরুল স্ মিলের স্বত্বাধিকারী এম. বদরুল আনাম খানের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। রিটে খুলনা চেম্বারের ৮৯৮ জন নতুন সদস্যের অনুমোদন, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচন বোর্ড গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খুলনা চেম্বারের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে বিবাদীদের এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এম. বদরুল আনাম খানও খুলনা চেম্বারের এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সভাপতি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম জহিরের প্যানেল থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষরা অনেক লোককে নতুন ভোটার বানিয়েছে, তার বিপরীতে আদালতে রিট করা হয়েছে।
এর ফলে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেসিসিআই নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ শাহীমুজ্জামান, আদালতের আদেশে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত আছে।
এদিকে, নির্বাচন আবারও স্থগিত হওয়ায় খুলনার ব্যবসায়ী মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা আবারও পিছিয়ে গেল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাবেক প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে তৎপর। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আমিনুল হক-এর নাম উল্লেখ করে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, তিনি পর্দার আড়াল থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী আমিনুল হকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক ও খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, আমরা আদেশের কপিটি পেয়েছি। আদালতের আদেশ মত তো আমাদের কাজ করতে হবে। নিদৃষ্ট তারিখের মধ্যে আদালত যে ব্যাখ্যা চেয়েছে, তা জমা দেওয়া হবে। এরপর যদি আর কোন আদেশ না আসে তাহলে যথাযথ নিয়মে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্মন্ন করা হবে।