প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬

মোস্তফা রেজানুল করীম, কয়রা : দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে মন্তব্য করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা থেকে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দিরে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে করেন।
পূজা মন্দিরে মন্দিরে তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তি, নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্ব নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় প্রসারিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই জনসাধারণের প্রতি সম্প্রতির বন্ধন দৃঢ় করার আহবান জানিয়েছেন। আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবো। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষকে নিজেদের ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে না ভেবে দেশের সম অধিকারভোগী বাংলাদেশী ভাবুন। আপনি আপনার মতো মন্দিরে ধর্ম পালন করবেন, এখানে কেহ কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না।
তিনি আরও বলেন, কয়রা উপজেলায় প্রায় ২০১টি (দুইশত একটি) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতে ইতিমধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছি। তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সহ নতুন ভবন, সংস্কার ও ভবন বর্ধিতকরনের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। হাসপাতাল, সুপেয় পানি ও পানির ট্যাংকির ব্যবস্থা, যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। এই সকল বরাদ্দ ও উন্নয়ন কয়রা উপজেলাতে দৃশ্যমান। নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম কথার ফুলঝুরি দিয়ে ধোকাবাজি করবো না, তার প্রমাণ আপনারা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন। কিন্তু একটি দল সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ নিজের ভাই-বোন, পিএস সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে দিয়ে প্রমাণ করেছে জামাতের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তারা সরকারকে সহযোগিতা না করে ঠুনকো অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ধাবিত করতে দিন-রাত নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অথচ জামায়াতের কর্মী থেকে শুরু করে এমপি সহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরার নজরুল ইসলাম কে সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যহতি না দিয়ে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করেছে জামায়াত। মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন জামায়াতের অপকর্ম। তারা খেলাধুলার মাঠ কে দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এটাই জামায়াতের আসল চরিত্র।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জেলা জাসাস আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, এড. আব্দুর রশিদ, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।