প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

দিঘলিয়া প্রতিনিধি : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহলের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের ভাঙা অংশ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কারকাজ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সময়ের সঙ্গে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,গত ১১ জুলাই টানা বর্ষণে চন্দনীমহলের প্রধান সড়কের একটি অংশ ভেঙে পড়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সড়কের পাশের মাটি ও ইটের সুরক্ষা দেয়াল ধসে খালে পড়ে যাওয়ায় সড়কের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে তৈরি হয় চরম ঝুঁকি।
চন্দনীমহল প্রধান সড়কটি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। কাঁটাবন, ভুঁইপাড়া, মালোপাড়া ও জেলেপাড়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চন্দনীমহল বাজার, খেয়াঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস ও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করেন। ফলে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৩ জুলাই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাস গুপ্ত ও উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল। পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিতিকে ইউএনও সুজন দাস গুপ্ত জানিয়েছিলেন, কোন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা যায় তা দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কিন্তু পরিদর্শনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সংস্কারকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ীভাবে মেরামত বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কর্মকর্তাগণ সড়কটি পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কাজ শুরু না হওয়ায় সেই আশাও এখন অনেকটা হতাশায় পরিণত হয়েছে।
তারা বলেন, সড়কের পাশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টি হলে ভাঙা অংশ ও আশপাশের মাটি আরও নরম হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ভেঙে যেতে পারে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে মাটি বা ইট দিয়ে ভরাট না করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি খাল বা নদীর পাশের অংশে টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, সংবাদ প্রকাশের পর কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরও যদি কাজ শুরু না হয়, তাহলে আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে?
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, কোনো দুর্ঘটনা বা সড়কের আরও বড় অংশ ধসে পড়ার আগেই চন্দনীমহলের প্রধান সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।