প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬

তথ্য প্রতিবেদক : ২০ বছর আগে স্ত্রী রেহেনা এর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় আল মামুনুর রশিদ খোকনের (৫৫)। এরপর স্ত্রী সন্তানদের (সুমনা, তুষার ও মুক্তা) নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। সেই থেকে মামুনুর রশিদ খোকনের দেখাশোনা করেন তার বোন হাসিনা খাতুন। সম্প্রতি মামুনুর রশিদ খোকন ব্রেন স্টোক করায় তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ব্রেন স্টোক করায় খোকন সৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোকনের মেয়ে সুমনা তাকে রিলিজ করিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান।
এ বিষয়ে মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার ডি-আলী স্কুলের পিছনের বাসিন্দা হাসিনা খাতুন সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একজন গৃহিনী। আমার ভাই আল মামুনুর রশিদ খোকন একজন ব্রেন স্টোকের রোগী। আমার ভাইয়ের সাথে তার স্ত্রী রেহেনার ২০ বছর পূর্বে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে তিনি ৩ সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। আমার ভাইয়ের নামীয় অনেক সম্পত্তি রয়েছে। আমার ভাই ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন স্টোক করায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার ভাই ব্রেন স্টোক করায় আমার ভাইয়ের সৃতিশক্তি হারিয়ে যায়। সৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ টায় আমাদের সকলের অনুপস্থিতিতে কর্তব্যরত ডাক্তারদের ভুল বুঝিয়ে আমার ভাইকে রিলিজ করিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায় তার ছোট মেয়ে সুমনা। আমরা আমার ভাইয়ের কেবিনে পৌঁছানোর পর তাকে তার বেডে দেখতে না পেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানালে তিনি জানান আমার ভাইয়ের ছেলে-মেয়েরা তাকে রিলিজ করিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা খুলনার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে খোঁজাখুজি করেও আমার ভাইয়ের কোন সন্ধান পাই নাই। আমরা ধারনা করছি, বিবাদীরা আমার ভাইয়ের নামীয় সম্পত্তির লোভে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে এবং তারা আমার ভাইকে হত্যা করা সহ তার বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারেন।
অভিযোগ পত্রে হাসিনা খাতুন এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন আল মামুনুর রশিদের মেয়ে সুমনা, মুক্তা, ছেলে তুষার, সাবেক স্ত্রী রেহেনা ও বড় মেয়ে জামাই রাজ্জাককে।
মামুনুর রশিদের বোন হাসিনা খাতুন বলেন, আমার ভাই আমার কাছে থাকে দীর্ঘ দিন ধরে। ১৭ তারিখ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিটি মেডিকেলে ভর্তি করি। ওষুধ কেনার জন্য আমরা বাইরে গেলে আমার ভাইকে তার সন্তানরা যাদের সাথে ২০ বছর কোন যোগাযোগ ছিল না কোথায় নিয়ে গেছে আমরা জানি না। ভাইয়ের শেষ সময়ে এসে তার সন্তানরা সম্পত্তির লোভে তাকে নিয়ে চিকিৎসা বন্ধ রেখেছে। আমরা তার সন্ধান চাই।
অপর বোন নাসরিন আক্তার খুকু বলেন, আমার ভাই সিটি মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। শুক্রবার তার মেয়ে তাকে কোথায় নিয়ে গেছে আমরা জানিনা।
অনুরূপভাবে অপর ২ বোন মুর্শিদা বেগম ও নাসিমা খাতুনও তার ভাইয়ের সন্ধান চান।
এ বিষয়ে মামুনুর রশিদের ছোট মেয়ে সুমনা বলেন, ছোট বেলায় আমার মা পারিবারিক সমস্যার কারণে আমাদের নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন। সেই থেকে আমরা সেখানে থাকতাম। আমার বাবা তার বাড়িতে থকেতেন। সম্প্রতি তিনি ব্রেন স্টোক করার পর তাকে আমার ফুফুরা সিটি মেডিকেলে ভর্তি করেন। সিটি মেডিকেলে তাকে বেশি দিন রাখার মতো সামর্থ্য আমাদের না থাকায় ফুফুদের আমরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলাম তাকে বাসায় নিয়ে আসবো। কিন্তু তারা রাজি হননি। পরে শুক্রবার বাবার হাসপাতালের বিল দিয়ে আমরা তাকে নিয়ে এসেছি।