৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ১২:১২

শিরোনাম
খুলনায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোনো অভাবই স্বপ্নের চেয়ে বড় হতে পারে না খুলনার ৩০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিল সিএসএস সিএসএস এবং পল মুন্সী দেশের মানুষের আস্থা ও মানবসেবার এক অবিচ্ছেদ্য নাম-খুলনার জোনাল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম খুলনায় অরুণোদয়ের বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমীরের রেভারেন্ড পল মুন্সী স্মরণে খুলনার পূর্ব রূপসায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সিভিএ বিষয়ক অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত খুলনায় আরএকে সিরামিকসের নতুন ফ্যাক্টরি আউটলেট উদ্বোধন

খুলনায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিবেদক:
‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথমে র‌্যালি ও পরে সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মোঃ শাহিনুর রহমান। সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিসহ জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর খুলনা এরিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লিটন মন্ডল, শহর এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, মাসসের নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, জাতীয় শ্রমিকদলের আহবায়ক মো: মজিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে তাদের প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বাস্তবায়নে কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরেন খুলনা এরিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লিটন মন্ডল। তিনি বলেন, শিশুশ্রমের মূল কারণ পারিবারিক অসেচতনতা এবং দারিদ্রতা। তাই শিশুরা স্কুল বিমুখ হচ্ছে এবং সেইসাথে শিশুশ্রমে ঝুঁকে পরছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, খুলনা এরিয়া প্রোগ্রামের আওতায় গত জানুয়ারী মাসে আমরা ১৫০ জন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি এবং সামনে আরও কিছু শিশুকে ফেরাতে পারবো বলে আশারাখি। এছাড়াও পরিবার প্রধানকে কন্ডিশন ক্যাশ প্রদানের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিরসনে উৎসাহে ওয়ার্ল্ড ভিশন কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১শ’ জন মসজিদের ইমামকে ধর্মীয় প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। তারা যেন শিশুশ্রম ও বাল্য বিবাহের মতো ভয়াবহ বিষয়গুলি জুম্মার নামাজের আগে মুসল্লিদের মাঝে বয়ান করেন।

নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুশ্রম থেকে ফেরত আসা মোঃ রাফি শেখ বলেন, ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর বাবা-মা চট্টগ্রামে চলে যায়। দরিদ্র দাদার সংসারে পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পরে। এরই মধ্যে দাদা এক্সিডেন্ট করলে সংসারের দায়িত্ব নিতে লেখাপড়া ছেড়ে কর্মে জড়িয়ে পরি। এসময় এক আপুর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহায়তায় পুনরায় লেখাপড়ায় ফিরতে পারি। এখন আমি ১০ম শ্রেণির ছাত্র।

ঝরে পড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসীর মা তানিয়া আক্তার বলেন, তার স্বামী রিক্সা চালায় আর তিনি মানুষের বাসায় কাজ করেন। কোনভাবে সংসারের ভরণপোষণ চললেও মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এসময় এক পরিচিতের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে যোগাযোগ হলে তারা তাকে ৬ হাজার টাকা দেয়। সেই টাকায় তিনি একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করেন। এখন তিনি বাসায় কাজ করার পাশাপাশি দর্জির কাজ করেন এবং মেয়েকেও আবার করোনেশন স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করেন।

সবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এমন কার্যক্রম নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো সকল এনজিও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে শিশুশ্রম নিরসন করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসীর লেখাপড়ার সিংহভাগ খরচ প্রদানের জন্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকলে অঙ্গহানি এমনকি প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও মাদকের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেক শিশুশ্রমে যুক্ত হয়। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতে মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সকল দপ্তর ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ^ব্যাপী প্রতিবছর ১২ জুন বিশ^ শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। বিশেষ কারণে বাংলাদেশে কেবল এ বছর ১২ জুনের পরিবর্তে ২৯ জুন দিবসটি পালন করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮ দশমিক ৭ নম্বর সূচক অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণখাতে শিশুদের নিয়োগ করা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষেধ।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন