আজ শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর আর নেই। আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ খবর নিশ্চিত করেছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী।

সাদেক বাচ্চুর মেয়ে সাদিকা ফাইরুজ মেহজাবীন প্রথম আলোকে জানান, ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত শুক্রবার পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছেন তাঁরা। এতে দেখা যায় সাদেক বাচ্চু কোভিড-১৯ পজিটিভ।

কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর আইসিইউ সাপোর্ট সহজভাবে নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক সিদ্ধান্তে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিগত দুই দিন কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হয়। সুস্থ করার জন্য চিকিৎসকেরা নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সবচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে।

জীবনে শেষ বছরগুলোয় অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন সাদেক বাচ্চুজীবনে শেষ বছরগুলোয় অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন সাদেক বাচ্চু

জীবনে শেষ বছরগুলোয় অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন সাদেক বাচ্চু।

সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চে, বেতারে, টিভিতে, সিনেমায়, সর্বত্র দাপুটে বিচরণ ছিল তার। নব্বই দশকে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা পান খলনায়ক হিসেবে। এই পরিচয়েই দেশজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে গুণী এই অভিনেতার।

১৯৬৩ সালে খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু। তার প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ। ’ ১৯৭২-৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যখন এদেশের সাংস্কৃতিক বলয় নতুনভাবে তৈরি হচ্ছিল, তখন যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন গুণী এই অভিনেতা। ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।

২০১৮ সালের ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেরা খল চরিত্রাভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সাদেক বাচ্চু।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য