প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

খবর বিজ্ঞপ্তির : সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠার ইতিহাসÑসংগ্রাম, ত্যাগ আর নেতৃত্বের এক জীবন্ত দলিল। সেই ইতিহাসকে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো আবেগে তুলে ধরতে খুলনায় আয়োজন করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের ওপর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি। প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক উত্থান, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময়, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের নানা অধ্যায়ের প্রায় শতাধিক স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রতিটি ছবি যেন একেকটি ইতিহাস, একেকটি আবেগের গল্প। এছাড়া পার্কের মুক্তমঞ্চে প্রদর্শিত হয় দেশনেত্রীর জীবন ও সংগ্রামের ওপর নির্মিত বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি (প্রামাণ্যচিত্র), যা দর্শকদের চোখে জল এনে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁর সংগ্রামী জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর জীবন সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রদর্শনীর উদ্বোধক ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মকে দেশনেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানার সুযোগ করে দিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের গল্প মানুষের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, কেএম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু , আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মোঃ রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার, শাহিন মল্লিক রাজু।