১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,বিকাল ৩:৫৬

খুলনায় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই চলছে ভোটগ্রহণ, ধাক্কায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিবেদক : খুলনায় বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার পর তার মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রথম চার ঘন্টা শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ১৮ হাজারের বেশী সদস্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে খুলনার ৮৪০ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি নগরীর হাজী মহসিন রোড বাই লেনের বাসিন্দা ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে খুলনায় ১৮ হাজার ৬২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যৌথবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল আটটায় আলিয়া মাদ্রাস একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে প্রচারণায় বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাঁধা দেই। তখন তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা আছে চেক করলে সব ধরা পড়বে।


কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানা এস আই খান ফয়সাল রাফি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই। তখন একজনকে সিএনজিতে করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ রায় বলেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।
খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
খুলনা-২ আসনে জামায়তের প্রার্থীর এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এখানেও জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। অধ্যক্ষ জামায়াতের কেউ নন।
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।
এদিকে সকাল সাড়ে ৭ টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি বেশী দেখা যায়।
বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কমতে থাকে।

ভোট উপলক্ষে যানবাহনের উপর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নগরীর ছিলো পুরো ফাঁকা। যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অধিক তৎপর থাকতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, খুলনার ৬ টি আসনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েনকৃত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ১,২৫০ জন, নৌবাহিনীর ৯৫৪ জন,বিজিবির ৩০০ জন, কোস্ট গার্ডের ৩৫৫ জন, র‌্যাবের ৯৮ জন, মেট্রো পুলিশের ২,৪৩১ জন, জেলা পুলিশের ২,১২৪ জন এবং আনসার ও ভিডিপির ১১ হাজার ১১২ জন। সব মিলিয়ে জেলায় ১৮ হাজার ৬২৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন