৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,রাত ২:২৮

শিরোনাম
খুলনায় ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখীকরণ বিষয়ক সচেতনতা সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ খুলনার লবণচরায় পিওর আর্থ এর সীসা দূষণ সচেতনতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগরীতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র “ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখীকরণ বিষয়ক সংলাপ” মোংলা বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন খুলনায় ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সেক্টরে এস আলমের একচ্ছত্র নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন খুলনার তেরখাদায় নৌবাহিনীর অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারী জাল আটক খুলনা মহানগরীর ১ ও ২৫নং ওয়ার্ডকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা

দ্বিতীয় দিনে পর্যটকবাহী নৌযান ধর্মঘট, বিপাকে দর্শনার্থীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

আলী আজীম, মোংলা : মোংলায় সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের ধর্মঘট আরও তীব্রতর হয়েছে। সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছে মালিকপক্ষ। এদিকে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের অব্যাহত ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়াল। টানা দুই দিন ধরে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে দিনব্যাপী ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। এর আগে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিহবন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিবাদে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে জালিবোট মালিকদের মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালিবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে গতকাল অভিযান চালিয়ে তাঁদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বোটমালিকেরা।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করি। কোস্ট গার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০ জন পর্যটক যাতায়াত করে। আমাদের সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা ট্রেড লাইসেন্স করেছি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে। যেখানে প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।

ঈশ্বরদীর পাবনা থেকে ঘুরকে আসা সোহান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আটকে গেছি। গাড়ী থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতারে একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ী ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা আবু হাসান বলেন, মেয়ের শখ পূরন করতে সুন্দরবনের উদ্দেশ্য আসছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছিনা। কি করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন। আসাটাই বৃথা হলো।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, ট্রলারমালিকেরা ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে কোনো নৌযান বা পর্যটক আসেনি।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা এর বেশি পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী সব নৌযানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন