২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ১১:০০

শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি অগ্রাধিকার দেব : তারেক রহমান খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে “সিটিজেন ভয়েস এন্ড একশন” বিষয়ক প্রারম্ভিক সভা অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগরীর ২৮নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলদেশ এর আয়োজনে লার্নিং রুটস/শিখন শিকড় কেন্দ্রের উদ্বোধন খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে “হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ও কুলিনারি আর্টস” এর উপর কেরিয়ার কাউন্সিলিং এবং সহযোগি সংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভা খুলনায় কারিগরি শিক্ষায় বেকার ও প্রতিবন্ধী যুবদের সম্পৃক্তকরণ ও উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খুলনায় ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখীকরণ বিষয়ক সচেতনতা সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ খুলনার লবণচরায় পিওর আর্থ এর সীসা দূষণ সচেতনতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগরীতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র “ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখীকরণ বিষয়ক সংলাপ” মোংলা বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি অগ্রাধিকার দেব : তারেক রহমান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ঢাকা : আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আমাদের প্রথম একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে-আইনশৃঙ্খলা। মানুষ বলছে, তারা যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে, এটা নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতি আমাদেরকে যেভাবেই হোক, অ্যাড্রেস করে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই দু’টি জিনিস ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারলে অন্যান্য সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়ে যাবে।

আজ শনিবার দুপুরে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিএনপি চেয়ারম্যান এ পরিকল্পনার কথা জানান। গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে এই আলাপচারিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন জাইমা রহমান।

বিজয়ীরা তারেক রহমানকে নানা ধরনের প্রশ্ন করেন এবং তিনি সেগুলোর বিষয়ে খোলামেলা জবাব দেন।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। এই দু’টি জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারি, অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে। এটা হচ্ছে আমার প্ল্যান।

ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে, স্বামী হারা নারীরা কি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, বিজয়ীদের কাছ থেকে এমন প্রশ্নও আসে। জবাবে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ড পাবেন যারা সিংগেল মাদার ব্রাইড, যারা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন এবং যাদের স্বামী ছেড়ে গেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের এই সোশ্যাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। কিন্তু, এগুলো ঠিক নেই। রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাচ্ছি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। আমরা এটাকে ইউনিভার্সালের জন্য রেখেছি।

উদাহরণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও (ফ্যামিলি কার্ড) পাবেন, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী— উনিও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল— তার ওয়াইফও পাবেন।

অনলাইনে নানা নিপীড়নের বিষয়ে মিডিয়া কথা বলেন না, কেউ কথা বলেন না, তাহলে প্রতিকার হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে এখন সাইবার বুলিং, এসিডের ঘটনা; আমরা যদি বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে শেখাই— দিস ইজ রং, দিস ইজ রাইট, দিস ইজ ব্ল্যাক, দিস ইজ হোয়াইট। এভাবে যদি বাচ্চাদেরকে আমরা শেখাতে পারি, আমার ধারণা একটা বাচ্চা একটা স্টেজে পৌঁছাবে। তখন তাদের মাথার মধ্যে এই জিনিসটা ঢুকে যাবে যে— কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক। তারা যখন বড় হবে, সামাজিক মূল্যবোধ আস্তে আস্তে অ্যাপ্লাই করা শুরু করবে।’

বাচ্চারা মোবাইলের ওপর আসক্তি হয়ে নেগেটিভ জিনিসগুলো দেখে সেক্ষেত্রে কী করা যায় একজন প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে কাজ করার আছে। আমার আব্বার (জিয়াউর রহমান) সময় নতুন কুঁড়ি নামে একটা অনুষ্ঠান ছিল। এটা অবশ্য বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার আবার চালু করেছে। আমাদের স্পোর্টস নিয়ে একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা নতুন কুঁড়ির সাথে স্পোর্টসটা যুক্ত করতে চাচ্ছি। বাচ্চারা স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানসিক বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে সিলেবাসে ক্রীড়া, তৃতীয় ল্যাঙগুয়েজ, আবৃত্তি, কলা, গান, শিল্প-সংস্কৃতি বিষয় যুক্ত করা হবে। ফলে স্কুলের বাচ্চারা এসব জায়গায় ব্যস্ত থাকবে। ইন্টারনেটের প্রতি ঝোঁক কমে আসবে।’

অনলাইনে হয়রানির বিষয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজের ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘আরেকটা জিনিস যদি আমি বলতে পারি, মানে অনলাইনে যে হারাসমেন্ট হয়— মেয়েরা-ছেলেরা সবাই হারাসমেন্ট হয়। এক্ষেত্রে ডিজিটাল এডুকেশন সিস্টেম করা যেতে পারে।’

জাইমা রহমান আরো বলেন, ‘আমাদের বোঝা উচিত— সিস্টেম হ্যাকিং রিপোর্টিং কীভাবে হয়? রিপোর্টিং সিস্টেম হয়তোবা হ্যাক করতে লাগবে, কমিউনিটি ডেস্ক যদি করা যায়, যদি এলাকায় কিছু ঘটে, তাহলে ওখানে এলাকার মানুষরাই জিনিসটাকে ম্যানেজ করতে পারবে। এভাবে লোকালি জিনিসটা ঠিক করা যায়। তাছাড়া, ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদেরকে যদি শেখানো যায় যে, কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়; তাহলে এই সমস্যাগুলো কমে আসবে। সবকিছু একসাথে করতে হবে।’

মেয়ের এই ভাবনা শোনার পর তারেক রহমান বলেন, যেমন একটা জিনিস ইন্ট্রোডিউস করা যায় এটা আমাদের চিন্তায় আছে, তবে আমরা প্ল্যানের মধ্যে আনিনি। সেটা হচ্ছে— যদি প্রাইমারি হয় তাহলে ক্লাস সিক্সে, সেকেন্ডারি হবে ক্লাস সেভেন। তিনজন-চারজন বন্ধু-বান্ধব মিলে একটা টিম হবে। তারা হয় একটা গরু বা একটা ছাগল বা একটা হাঁস, একটা মুরগি, একটা বিড়াল, একটা কুকুর, একটা পাখি— যেটাই হোক এটাকে পালবে এবং তারা ওটার উপরে তারা তাদের কী অভিজ্ঞতা হলো, কীভাবে পালন করলো, এটা একটা এক্সাম হবে। এই জিনিসটা ইন্ট্রোডিউস করা যায় কি না?— উপস্থিত বিজয়ীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন তারেক রহমান।

ফেসবুকের অফিস বাংলাদেশে আনা যায় কি না সেটাও বিএনপির চিন্তায় আছে বলেও জানেন তারেক রহমান।

ঢাকার যানজট নিরসন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ধারণা আছে ঢাকা শহরে এখন কত মানুষ? শুনেছিলাম ৩ কোটি প্লাস মানুষ। এই ট্রাফিক জ্যাম হবার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত আমাদের রোড ডিজাইনিং, দ্বিতীয়ত আমাদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম আর থার্ড হচ্ছে বেশ কতগুলো ফ্যাসিলিটি। ফ্যাসিলিটির মধ্যে এডুকেশন আছে, হেলথ আছে, সিকিউরিটি আছে, জব সিকিউরিটি আছে। এই সবকিছুই কম-বেশি ঢাকা কেন্দ্রে গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, জেলাগুলোতেও ছোট ছোট শহর আছে। জেলা শহর আছে বা সদর শহর আছে। সেখানে আমরা ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলবো। আমরা নতুন জায়গা নিব না। যেই জায়গায় অলরেডি শহরটা আছে। এই জায়গাতেই আমরা জিনিসটা তৈরি করব। ওখানে বেসিক সাপোর্টগুলো থাকবে। বেসিক সাপোর্টের মধ্যে স্কুল থাকবে ভালো, এডুকেশন থাকবে, চিকিৎসা সুবিধা থাকবে, গ্রোসারি মার্কেট থাকবে, সিকিউরিটি এনসিউর করার চেষ্টা করা হবে।

‘জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায়’ ১০ জন বিজয়ী হলেন, তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী। তারা বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা-চিন্তাভাবনাগুলো জানান।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন