২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,বিকাল ৩:৫০

সাতক্ষীরার স্থলসীমান্ত পথে বৈধ গমনাগমন বন্ধ থাকলেও অবৈধ পথে চলছে অনুপ্রবেশ

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১

  • শেয়ার করুন

সীমান্ত ব্যুরো, সাতক্ষীরাঃ
জীবনবিনাশী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মূহুর্তে থেমে নেই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র। মহামারীর এই দূর্যোগপ্রবণকালে সাতক্ষীরার স্থলসীমান্ত বৈধ পথে পাসপোর্ট যাত্রী গমনাগমন বন্ধ থাকলেও অবৈধ পথে চলছে অনুপ্রবেশ। জীবনঘাতি করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী ছোঁবল মোকাবেলায় সরকার দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর স্থল সীমান্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা সীমান্তের ২৮৩ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারীর মধ্যেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ মানব পাচারকারী দালালরা মোটা অঙ্কের চুক্তির বিনিময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে নারী ও পুরুষদের রাতের আঁধারে সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে পাচার করে নিয়ে আসছে। সাতক্ষীরার ভোমরা, লহ্মীদাঁড়ী, পদ্মশাঁখরা , হাড়দ্দা, গাজীপুর, ঘোনা, বৈকারী, কুঁশখালী, চান্দুড়িয়া ও তলুইগাঁছা সীমান্তের চোরাই রুট দিয়ে প্রতিদিন পাচার হয়ে আসছে ভারতে অবস্থান নেওয়া শত শত নারী-পুরুষ। সীমান্তের গোপন সূত্রে প্রকাশ, সাতক্ষীরার লহ্মীদাঁড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে নারী, শিশু ও পুরুষ। লহ্মীদাঁড়ী সীমান্তের শীর্ষ মানব পাচারকারী দালাল তারক সরকারের পুত্র কার্ত্তিক ও অমল সরকার, বরিশালের মানব পাচারকারী শামীম হোসেন (বর্তমান ঠিকানা লহ্মীদাঁড়ী), আব্দুর রউফ এর পুত্র রাশেদ, কুদ্দুসের পুত্র খোকা, আরিজুলের পুত্র জাকির ও রাজু, মৃত: মোহাম্মদ গাজীর পুত্র আলম, রুহুল আমীনের পুত্র সাইদ এবং লহ্মীদাঁড়ী সীমান্তের মিঠুন। এছাড়া পদ্মশাঁখরা সীমান্তের মৃত: জালাল গাজীর পুত্র শফিকুল ইসলাম(পুটে), মৃত: জিয়াদ আলীর পুত্র সবিরুল এবং বিমল সরকারের পুত্র কিশোর, এরা সবাই সাতক্ষীরা সীমান্তের চোরাই রুট দিয়ে প্রতিদিন গভীর রাতে ধুড়ের মাথাপিছু ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করে নিয়ে আসছে বলে সীমান্ত জুড়ে অভিযোগ উঠেছে। ভোমরা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিবঙ্গের ঘোজাডাঙ্গা, পানিতর ও ছোলাদানা সীমান্ত এলাকার মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট দালালদের সঙ্গে গোপন সখ্যতা ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাতক্ষীরা সীমান্তের বিওপি গুলোতে (বর্ডার অপারেশন পোস্ট) টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সীমান্তের টহলরত বিজিবি জোয়ানদের নজরে আসা পাচারকৃত ব্যক্তিরাই আটক হচ্ছে। আর যারা চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে তারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত কয়েকদিন ধরে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে বিজিবির হাতে ৯০ জন বাংলাদেশী নারী-পুরুষ আটক হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৩৩ জন বাংলাদেশী নারী-পুরুষকে আটক করেছে বিজিবি।এছাড়া গত ২৮ মে থেকে ৭ই জুন ২০২১ পর্যন্ত ৩১ জন, বুধবার রোহিঙ্গাসহ ১০ জন, বৃহঃবার ২ জন, শুক্রবার ৪ জন এবং গত শনিবার ৩ জন নারী ও পুরুষ আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল-মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘অবৈধ গমনাগমন নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে সর্বদা কঠোর নজরদারী এবং টহল তৎপরতা অব্যাহত আছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন