আজ রবিবার, ৭ই মার্চ, ২০২১ ইং, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খুলনার কাছে বড় ব্যবধানে হারল বরিশাল

ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ সাকিব আল হাসান। তবে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে আলো ছড়ালেন জাকির হাসান। তার ফিফটিতে ফরচুন বরিশালকে বড় লক্ষ্য দেওয়া জেমকন খুলনা জিতল অনায়াসে। উঠে এলো বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দুই নম্বরে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবারের প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জিতেছে খুলনা।

জাকিরের ফিফটিতে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান করে খুলনা। তামিম ইকবালের ব্যাটে ভালো শুরু পেলেও শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় বরিশাল।

টানা চার জয়ে ৮ পয়েন্ট পাওয়া গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম রয়েছে শীর্ষে। পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে মাহমুদউল্লাহর খুলনা। সমান ম্যাচে চতুর্থ হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তামিমের বরিশাল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। টাইমিং পেতে ভুগছিলেন জহুরুল ইসলাম। একদমই মাঝ ব্যাটে খেলতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে শেষ হয় তার সংগ্রাম।

এনামুল হকের জায়গায় প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে সুযোগ পাওয়া জাকির শুরু থেকে খেলেন আস্থার সঙ্গে। পেস, স্পিন সব কিছুতেই ছিলেন সাবলীল। চমৎকার সব কাভার ড্রাইভ খেলেছেন তরুণ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ক্রিজে যাওয়ার পর শুরুতে আক্রমণাত্মক ছিলেন ইমরুল। আফিফ হোসেনের দুই ওভারে মারেন ছক্কা ও চার। এরপর একটু মন্থর হয়ে যান তিনি। তবে অন্য পাশে শট খেলছিলেন জাকির, তাতে সচল থাকে খুলনার রানের চাকা।

কামরুল ইসলাম রাব্বি ভাঙেন দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের রানের জুটি। ৩৪ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৩৭ রান করা ইমরুল মিড অফে ধরা পড়েন তামিমের হাতে।

৫৯ রানে কিপারের হাতে জীবন পাওয়ার পর বেশিদূর যেতে পারেননি জাকির। তাসকিনের স্লোয়ার বুঝতেই পারেননি। কাভার দিয়ে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন তৌহিদ হৃদয়ের হাতে। ৪২ বলে খেলা জাকিরের ৬৩ রানের ইনিংসে চার ১০টি।
ক্রিজে গিয়ে দ্বিতীয় বলেই চমৎকার এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মারেন সাকিব। পরে তাসকিনকে কাট করে হাঁকান আরেকটি বাউন্ডারি। ভালো শুরুটা বড় করতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে ওড়ানোর চেষ্টায় ধরা পড়েন লংঅনে। ১০ বলে দুটি চারে করেন ১৪ রান।

গিয়েই ঝড় তোলা মাহমুদউল্লাহ চারটি চারে ১৪ বলে করেন ২৪ রান। তাকে থামানো রাব্বি বরিশালের সফলতম বোলার। ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন ২ উইকেট নেন ৪৩ রানে। এদিন লাইন-লেংথ নিয়ে বেশ ভুগেছেন এই পেসার।

রান তাড়ায় তামিম ও পারভেজ হোসেনের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে বরিশাল। দ্বিতীয় ওভারে শুভাগত হোমকে ছক্কায় ওড়ান তামিম। সেই ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে আরেকটি বাউন্ডারি।

সাকিব ছিলেন হিসেবি। আঁটসাঁট বোলিংয়ে বেঁধে রেখেছিলেন ব্যাটসম্যানদের। অন্য বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে রানের গতিতে দম দেন তামিম। সাত ওভারে ৫৭ রান তোলে বরিশাল।

নিজের প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়া শুভাগত অষ্টম ওভারে আক্রমণে ফিরে পাল্টে দেন খেলার চিত্র। অফ স্পিনারকে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান পারভেজ। ২৬ বলে ১ ছক্কায় তিনি করেন ১৯।

সেই ওভারের শেষ বলে শুভাগত ধরেন বড় শিকার। তাকে বেরিয়ে এসে ওড়ানোর চেষ্টায় লং অনে জহুরুলের হাতে ধরা পড়েন তামিম। ২১ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে বরিশাল অধিনায়কের রান ৩২।

পরের ওভারে নিজের দোষেই রান আউট হয়ে ফিরেন আফিফ হোসেন। বরিশালের রান তখন ৬০/৩। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বরিশাল।

এক ছক্কায় ১৬ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে যান ইরফান শুক্কুর। সর্বোচ্চ ৩৩ রান করা তৌহিদ হৃদয়কে থামানোর পর তাসকিনকে বিদায় করেন হাসান মাহমুদ। এরপর বেশি দূর এগোয়নি বরিশালের ইনিংস।

বরিশাল শেষ ৬ উইকেট হারায় মাত্র ২ রানে। শেষ ৫ ব্যাটসম্যানের মিলিত রান কেবল ২।

খুলনার শহিদুল ইসলাম, হাসান ও শুভাগত নেন দুটি করে উইকেট। চমৎকার ফিফটির জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জাকির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জেমকন খুলনা: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (জহুরুল ২, জাকির ৬৩, ইমরুল ৩৭, সাকিব ১৪, মাহমুদউল্লাহ ২৪, শামীতামিমদেরম ৬, আরিফুল ৬*, শুভাগত ৫*; তাসকিন ৪-০-৪৪-২, আবু জায়েদ ৪-০-৩৩-০, মিরাজ ৪-০-২৫-০, আফিফ ২-০-২২-০, রাব্বি ৪-০-৩৩-৩, তানভির ২-০-১৬-১)

বরিশাল ফরচুন: ১৯.৫ ওভারে ১২৫ (তামিম ৩২, পারভেজ ১৯, আফিফ ৩, হৃদয় ৩৩, শুক্কুর ১৬, মাহিদুল ১০, মিরাজ ১, তাসকিন ০, তানভির ০, কামরুল ১, আবু জায়েদ ০*; সাকিব ৪-০-২২-১, শুভাগত ৩-০-১৮-২, আল আমিন ৪-০-৩১-১, শহিদুল ২.৫-০-১৭-২, হাসান ৪-০-১৮-২, মাহমুদুল ১-০-১৩-০, শামীম ১-০-২-০)

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য