২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৭:৪৮

শিরোনাম
কয়রায় মহসিন রেজা, ডুমুরিয়ায় এজাজ ও পাইকগাছায় আনন্দ চেয়ারম্যান নির্বাচিত খুলনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ফেরদৌস আহম্মেদ’র প্রধানমন্ত্রী গরিব-দু:খী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করে চলেছেন-কেসিসি মেয়র খুলনায় তিনদফা দাবিতে ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো মোংলা বন্দর সরকার সবসময় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে থাকবে-ভূমিমন্ত্রী খুলনায় নতুন ভবনে নতুন আঙ্গিকে গণহত্যা জাদুঘর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারিরিক সম্পর্ক; মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) ক্লোজড সুন্দরবনে আগুন, কারণ বের করতে আরও ৭ কার্যদিবস সময় নিলো তদন্ত কমিটি

তালায় বেকার যুবকের ঋণ আত্নসাৎ করলেন যুব কর্মকর্তা

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৩

  • শেয়ার করুন

তালা প্রতিনিধি : তালায় আত্নকর্মসংস্থান সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ট্রেনিং প্রাপ্ত দরিদ্র বেকার যুবকের ঋণের টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম।
তথ্য সূত্রে প্রকাশ, তালা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম যোগদানের পর হতে ধরা কে সরা জ্ঞান করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। এহেন কোন কাজ নেই তিনি করতে পারেন না। তিনি হলেন সরকারী অফিস পাড়ার মুশকিল আহসান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তালা উপজেলা ইসলামকাটি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোঃ আব্দুস সামাদ শেখের পুত্র মোঃ আয়ুব শেখ জেলা যুব উন্নয়ন অফিসের আওতাধীন একটি যুব ট্রেনিং গ্রহণ করেন। ট্রেনিং শেষে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট নিয়ে তালা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে আত্নকর্মসংস্থান সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তিনি উক্ত প্রাপ্ত লোন পরিশোধ করে পুনরায় ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এখানেই বাঁধে আয়ুব শেখের দূর্গতি। তার ঋণ দেওয়ার নামে নানান রকম তালবাহানা শুরু করেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা(ক্রেডিট সুপারভাইজার) মো: আমিরুল ইসলাম। প্রায় ২-৩ বছর অতিবাহিত হলেও ঋণ মেলে না আয়ুব শেখের ভাগ্যে। এমতবস্থায় নাছোড়বান্দা আয়ুব শেখ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলামের কাছে ধর্না দিলে সেই সুযোগ কাজে লাগান ওই সরকারী কর্মকর্তা। সুযোগ বুঝে ওই সরকারী কর্মকর্তা আয়ুব শেখের কাছ হতে লোনের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে এবং আয়ুব শেখের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট এর একটি চেক হাতিয়ে নেন।
চেকে গ্রহণের সময় সুচতুর সরকারী কর্মকর্তা মো: আমিরুল ইসলাম বলেন, তার একই নামে অন্য একটি ব্যক্তির লোন পাশ হয়েছে। তাই নতুন করে আর এ্যাকাউন্ট না খুলে আয়ুবের এ্যাকাউন্টে টাকা প্রবেশ করানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আয়ুব শেখের সন্দেহ হলে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন। খোঁজ খবরের এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন তার লোন পাশ করিয়ে আত্নসাৎ করেছেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম।
এমতবস্থায় ভুক্তভোগী আয়ুব শেখ গত সোমবার (০৭ ই আগস্ট ২৩) সকালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে হাজির হয়ে রেজুলেশন খাতা দেখতে চান। রেজুলেশন খাতায় দেখা যায় গত বছর নভেম্বর মাসে সুচতুর ওই সরকারী কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম আয়ুুব শেখের নামের ৮০ হাজার টাকার লোন উক্ত চেকের মাধ্যমে আত্নসাৎ করেছেন।
এই নিয়ে তৎক্ষণাত বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ছলনা শুরু করেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম। এক পর্যায়ে আয়ুব ইসলামের নামে উত্তোলন করা টাকার একটি অংশ মানেজ করে আয়ুবকে প্রদান করেন।
এই সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম এর আগেও যুব উন্নয়ন অফিস কতৃক ট্রেনিং নামে কাল্পনিক নাম ও বয়স্ক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করে ট্রেনিং এর প্রাপ্ত টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য খুটির জোরে মোঃ আমিরুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়াতে টিকে আছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আয়ুব শেখ জানান, আমারে যুব উন্নয়ন অফিস কতৃক সার্টিফিকেটের বিপরীতের আত্নকর্মসংস্থান সম্প্রসারণ প্রকল্পের লোন আত্নসাৎ করেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম। বিষয়টি বেশ কিছুদিন পর টের পেয়ে ধরাধরি করলে সুচতুর সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আমিরুল ইসলাম লোনের বিপরীতের কিছু অর্থ আমাকে প্রদান করেছেন।
অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ক্রেডিট সুপারভাইজার) মোঃ আমিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, লোন আত্নসাৎতের বিষয়টি ভুক্তভোগীর সাথে মীমাংসা করা হয়েছে। অযাথা লেখালেখির কোন দরকার নেই !
এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অ:দা:) সজ্ঞীব কুমার দাশ জানান, আমি তালা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আপনাদের (সংবাদকমীদের) মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। যদি আমিরুল ইসলাম এমন কাজ করে থাকে তাহলে সে অন্যায় করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন