প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬

তথ্য প্রতিবেদক : খুলনা প্রেসক্লাবে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের হুমকি ও হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের সামনে নগরীর স্যার ইকবাল রোডে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সিটি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ^াস করে। কারণ গণমাধ্যম এবং সংবাদকর্মীরাই রাষ্ট্র ও সরকারকে সঠিক পথে চলার দিক নির্দেশনা দেয়।
তিনি বলেন, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই হামলার সঙ্গে যদি বিএনপিরও কেউ জড়িত থাকে সেও ছাড় পাবে না। যদি মহানগর বিএনপি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খুলনা প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। প্রেসক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করেন। আর সেই প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। বক্তারা এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তারা বলেন, সাংবাদিকরা হলো সমাজের দর্পণ এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব; সেখানে খুলনা প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে অবস্থানকালে তাদের ওপর এমন হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত চিন্তার পরিপন্থী। অবিলম্বে ওই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লবের আহবায়ক এনামুল হক। কর্মসূচি পরিচালনা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
বিক্ষোভ চলাকালে বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম হাবিব ও এসএম জাহিদ হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মো. মিজানুর রহমান মিলটন ও কৌশিক দে, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-মহাসচিব মো. হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার, সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সময়ের খবর সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পদক মোহাম্মদ আলী সনি, এনটিভি’র খুলনা ব্যুরো প্রধান মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা ও কাজী মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য আবুল হাসান হিমালয়, আব্দুর রাজ্জাক রানা, বশির হোসেন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেন, খুলনা রিপোর্টার্স ইউনিটির (কেআরইউ) সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা ফটোর্জানালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল আহসান, খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মুন্না, খুলনা কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, খুলনা টিভি রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশেনের কোষাধ্যক্ষ বেল্লাল হোসেন সজল, ডুমুরিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, ক্লাব সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ মোজাম্মেল হক হাওলাদার, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, রকিব উদ্দিন পান্নুু, এ এইচ এম শামিমুজ্জামান, বিমল সাহা, মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ), এসএম নূর হাসান জনি, মোঃ আনিসুজ্জামান, সোহেল মাহমুদ, এমএ হাসান, বাপ্পী খান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, কাজী শামীম আহমেদ, জিএম মনিরুজ্জামান, দেবব্রত রায়, সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, শেখ শামসুদ্দীন দোহা, শেখ আল এহসান, উত্তম মন্ডল, মোঃ নূর ইসলাম রকি, শেখ লিয়াকত হোসেন, এজাজ আলী, মোঃ আসাফুর রহমান কাজল, দীলিপ কুমার বর্মন, রিংটন মন্ডল, প্রবীর কুমার বিশ্বাস, মোঃ মেহেদী হাচান, আল মাহমুদ প্রিন্স, মোঃ হেলাল মোল্লা, মো. এরশাদ আলী, খলিলুর রহমান সুমন, কেএম জিয়াউস সাদাত, আতিয়ার পারভেজ, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি, দীপংকর রায়, উত্তম কুমার সরকার, মো. সাদ্দাম হোসেন, সোহরাব হোসেন, আলমগীর হান্নান, কনক রহমান, শেখ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, মোঃ আতিয়ার রহমান তরফদার, সুনীল কুমার দাস, শেখ জাহিদুল ইসলাম, মো. আনিস উদ্দিন, মোঃ হুমায়ুন কবীর, আবু সাঈদ, মোঃ নেয়ামুল হোসেন কচি, মো. আজিজুল ইসলাম, মো. আবুল বাশার, হাসান আল মামুন, মোঃ রবিউল গাজী উজ্জ্বল, আব্দুল¬াহ আল মামুন রুবেল, তিতাস চক্রবর্তী, শেখ ফেরদৌস রহমান, এসএম বাহাউদ্দিন, আরাফাত হোসেন অনিক, মোঃ সোহেল রানা, মিলন হোসেন, মোঃ রফিক আলী, তুফান গাইন, আমজাদ আলী লিটন, শাহানা পারভীন শিল্পী, মোঃ হাসানুর রহমান তানজির, ইমাম হোসেন সুমন, মোঃ মেহেদী মাসুদ খান, এসএম সাইফুল ইসলাম বাবলু, আমীর সোহেল, এম ডি অসীম, শাহজালাল মোল্লা মিলন, মোঃ আনিছুর রহমান কবির, মোহাম্মদ মাসরুর মুর্শেদ, মো. রাজু হাওলাদার, এসএম জাহিদুল ইসলাম সাগর, নূরুল আমিন নূর, মো. মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মো. কামাল হোসেন, মোঃ হাবিবুর রহমান, রামিম চৌধূরী, শুভ্র শচীন, তানজীম আহমেদ, রাজু আহমেদ, ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য এমএ সাদি, ফকির শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মী বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহন করেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে খুলনা প্রেসক্লাব। একই সাথে উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রস¯ে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। খুলনা প্রেসক্লাবে ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। বহিরাগতরা ক্লাবে ঢুকে সভাপতি প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করতে থাকে। সে সময় এখন টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার উপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় রবিবার রাতে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পালিত হয়।