১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,সকাল ৮:০৯

খুলনার ৬ টি আসনে জয়ী নৌকার প্রার্থীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৪

  • শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিবেদক : খুলনার ৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। প্রতিটি আসনে প্রতিপক্ষের চাইতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই তারা বিজয়ী হয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনের আগে শঙ্কা থাকলেও কোন প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ছাড়াই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করতে সেনা বাহিনীসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনভর রাজপথে থেকেছে।
সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী খুলনা-১ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ননী গোপাল মণ্ডল বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত রায় পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬২ ভোট।
খুলনা-২ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাহউদ্দিন পূনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ৯৯ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকের মোঃ গাউসুল আজম পেয়েছেন ৩৮৪১ ভোট।
খুলনা-৩ আসনে বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এসএম কামাল হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৯০ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৩ ভোট।
খুলনা-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ফলাফলে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তিনি ৮৫ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র¿ প্রার্থী এসএম মোর্ত্তজা রশিদী দারা পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৩৯ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ১৫০ ভোট।
খুলনা-৬ আসনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ফলাফলে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ রশিদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীস্বতন্ত্র প্রার্থী জি এম মাহবুবুল আলম। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ২৬১ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ১২২টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১১৫টি পর্যবেক্ষক টিমকে ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়। ভোট চলাকালে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এম ডি ওমর একটি আসনের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, খুলনা জেলার ৬টি আসনে ৫ হাজার ২২৫ জন পুলিশ, ৯ হাজার ৫১৬ জন আনসার, ৯৬ জন র‌্যাব সদস্য, ১৯ প্লাটুন বিজিবি, ৫৯৬ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৬৪৬ জন দফাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশের সদস্যরাও রয়েছে। মহানগরী ও উপজেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ৬০০ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনে ৪৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলার ৬টি আসনে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৯ জন। এবারের নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনে মোট ভোটার রয়েছে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮১ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ১৮ লাখ ১ হাজার ২ জন। এ বছর জেলার ৬টি আসনে ৭৯৩টি ভোট কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৭২০টি ভোট কক্ষ ছিলো।

 

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন