২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,বিকাল ৫:১২

শিরোনাম
কোনো অভাবই স্বপ্নের চেয়ে বড় হতে পারে না খুলনার ৩০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিল সিএসএস সিএসএস এবং পল মুন্সী দেশের মানুষের আস্থা ও মানবসেবার এক অবিচ্ছেদ্য নাম-খুলনার জোনাল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম খুলনায় অরুণোদয়ের বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমীরের রেভারেন্ড পল মুন্সী স্মরণে খুলনার পূর্ব রূপসায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সিভিএ বিষয়ক অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত খুলনায় আরএকে সিরামিকসের নতুন ফ্যাক্টরি আউটলেট উদ্বোধন সরকারের পাশাপাশি খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আবার সরব গাবতলী মহাখালী, সায়েদাবাদ

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১

  • শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক :

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ঘোষণায় বাস টার্মিনালগুলোতে শুরু হয়েছে ‘ঈদযাত্রা’র প্রস্তুতি। প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ-মৃত্যুর রেকর্ডের সময়েও বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীর চাপ। শুধু তা-ই নয়, অনেক ট্রিপের টিকিট বিক্রিও শেষ। রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায় দূরপাল্লার বাস চালুর প্রস্তুতি। সকাল থেকেই ছিল চালক-শ্রমিকদের উপস্থিতি। বিধিনিষেধে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় এ খাতের শ্রমিকরা পড়েছিলেন বিপাকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবিও জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে গণপরিবহন চালুর ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের মধ্যে। গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিক রুবেল বলেন, ‘সরকারের কঠোর লকডাউনে আমরা বিপদে পড়েছি। টানা লকডাউনে পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন পার করেছি। আমি নিজেও অনেক দিন না খেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ খোঁজ নেয়নি। আমরা কাজ করলে টাকা পাই আর সেই টাকা দিয়েই সংসার চালাই। কিন্তু এত দিন লকডাউনে আমাদের কেউ খোঁজখবর রাখেনি। পরিবহন মালিক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছে। পরিবহন মালিকরা নিজেরাই ঠিকমতো ঋণের টাকা দিতে পারে না। তাহলে আমাদের দেবে কীভাবে।’

——

শাহ আলম নামে একজন বাসচালক বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। করোনায় মরে গেলে যাব, কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না। খুব কষ্টে দিন পার করছি। পুরো পরিবার নিয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের আয় বন্ধ ঠিকই, কিন্তু পরিবারের খরচ তো আর বন্ধ নেই।’ গাবতলীতে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাসগুলো পরিষ্কার করার কাজ চলছে। গাড়িগুলো ঠিকঠাক আছে কি না তা দেখে নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ ছাড়া অনেক গাড়ি মেরামতের কাজও করছেন মালিকরা। এদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের রয়্যাল কাউন্টারে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা অগ্রিম কোনো টিকিট বিক্রি করে না। যাত্রী উপস্থিত হওয়ার পর একটি বাসের সিটগুলো বিক্রি হয়ে গেলেই বাস ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বলছেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী যেকোনো বাসে ঈদের আগে ও পরের কয়েক দিন যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। মহাখালীর এনা পরিবহনের ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট রুটের যাত্রীদের অনেকেই এরই মধ্যে ফোনে টিকিট চেয়েছেন। শুধু ঢাকা-সিলেট রুটের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে টিকিট অগ্রিম কোনো টিকিট দেওয়া হয় না, ঈদের দেওয়া হবে না। যাত্রী এলে টিকিট বিক্রি করে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে। এনা পরিবহনের ব্যবস্থা পরিচালক ও ঢাকা জেলা বাসমালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার গণপরিবহন খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ইতিবাচক। সাধারণ জনগণ ভালোভাবে গ্রামে যেতে পারবেন। পরিবহন চালু না থাকলে জনগণ বাড়ি ঠিকই যেতেন, তবে গাদাগাদি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যেতেন। এ ছাড়া পরিবহন চালু হওয়ায় ঈদের পরিবহন শ্রমিকদেরও একটা আয়ের উৎস হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৪ জুন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনে’র সুপারিশ করা হয়। কমিটির সুপারিশের আলোকে ২৮ থেকে ৩০ জুন তিন দিন সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপর ১ জুলাই থেকে শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। বন্ধ করা হয় গণপরিবহন চলাচল।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন