২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ১১:০৭

শিরোনাম
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন লাল শাড়িতে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে লাশ হয়ে ফিরলেন মিতু সহ ১৪ জন রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর কনেসহ নিহত ১৪ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ খুলনা শহর এরিয়া প্রোগ্রাম-২ এর ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র সূচনা খুলনায় পিছিয়ে পড়া ৫০ জন মাকে নিয়ে জীবন উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র উইই প্রকল্পের উদ্বোধন খুলনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং সিএসএস হোপ টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট ও এশিয়া টেকিনিক্যাল ট্রেইনিং সেন্টারের মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে খুলনায় শিশু ও যুব সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত খুলনায় শিশু সুরক্ষা নীতি বাস্তবায়নে সুশীল সমাজের সাথে সমন্বয় সভা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র

ইউএনও’র ওয়াহিদার ওপর হামলা করে তারই কার্যালয়ের মালি; পুলিশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

  • শেয়ার করুন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর তারই সাবেক মালি হামলা চালিয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।

শনিবার একটি সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ওই হামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন কর্মচারী রবিউল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যে হামলায় হাতুড়ি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে তাকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

এই ঘটনায় বাড়ির নৈশ প্রহরী নাজিম হাসান পলাশকেও গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। যদিও রবিউল ইসলামকে রিমান্ডে নেয়া হলেও নাজিম হাসানের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর রবিউলকে আটক করা হয়। তিনি বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মালি পদে নিযুক্ত ছিলেন। ৫০ হাজার টাকা চুরি করার অপরাধে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিউল ইসলাম নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সরকারি কর্মচারীকে আমরা আটক করেছি। তার দেওয়া তথ্যে মই ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, আটক রবিউল প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হামলার ঘ্টনায় নিজের দায় স্বীকার করেছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছি। এছাড়া তার বক্তব্য ও জব্দ করা সিসিটিভ ফুটেজের সাথে মিল পাওয়া গেছে। আমরা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করব।

প্রেস ব্রিফিং শেষে আটক রবিউল ও এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আসাদুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম ৭ দিন ধরে রিমান্ডে ছিলেন। শনিবার পুলিশের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।  এছাড়াও ইউএনওর বাসভবনের নৈশ্যপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় রবিউল ইসলামকে আটক করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ইউএনও ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

এই হামলার ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর জেলা ডিবি তদন্ত করছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও র‌্যাব তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

র‍্যাব আর পুলিশের দুই রকমের তথ্য

এর আগে এই ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগের একজন নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব জানিয়েছিল, তারা চুরির উদ্দেশে ওই বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

সেই সময় র‍্যাব-১৩ অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেছিলেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল জানিয়েছেন, নবীরুল এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি নবীরুল বলেও সে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল যে, তারা মনে করেন, এটা কোন চুরির ঘটনা নয়।

“অ্যাসোসিয়েশন মনে করে এটি কোনও চুরির ঘটনা নয়। কারণ দুর্বৃত্তরা কোনও প্রকার জিনিস বা সম্পদ চুরি করেনি। এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনা এবং এর সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।” লিখিত বক্তব্যে বলেছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

পরে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘ইউএনওর বাসায় চুরির ঘটনা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। কী কারণে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে, তা আরও তদন্তের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছি।’

এরপরেই ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করতে শুরু করে।

এর কয়েকদিন পরেই ইউএনও কার্যালয়ের মালীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানালো, এই কর্মচারীই ইউএনও-র ওপর হামলা চালিয়েছিল।

পুলিশ ও র‍্যাবের ভিন্ন তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাব-১৩ অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”গ্রেপ্তারের পর তারা স্বত:প্রণোদিত হয়েই ওই স্বীকারোক্তি দিয়েছিল। সেটা তাদের বক্তব্য ছিল।”

“তখনো আমরা বলেছি, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আরও সময় দিতে হবে, তদন্ত করতে হবে। এখন পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে, সেটাই ঠিক।”

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্যের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। আসাদুল এটি কেন বলেছে…হয়তো তাকে মিসগাইড করেছে, বা অন্য কোন ইয়ে থাকতে পারে, সব বিষয়গুলো কিন্তু আমরা দেখছি তদন্ত করে।”

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন