আজ সোমবার, ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিনারেল ওয়াটারের নামে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মানহীন পানি

হাসানুর রহমান তানজিরঃ আমরা সবাই জানি, পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু খুলনা মহানগরীতে বিশুদ্ধ মিনারেল পানি বলে বিক্রি হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন পানি। অনেকেই অবৈধভাবে এ জারের পানির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারছে। বর্তমানে অসংখ্য পানি বাজারজাতকারী অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের অনুমদোন থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অত্যাধুনিক ল্যাব রয়েছে নাম মাত্র। আর বাকিগুলোর তো নেই কোন ব্যবস্থাই। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রক্রিয়া করা এ পানি পান করে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের মানুষ। পড়ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। ইতোমধ্যে এরকম ৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা করা হলেও তারা সহ বাকিরা ব্যবসা করে যাচ্ছে দেদারছে প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে।

খুলনা নগরীর কয়েকটি খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে পানি প্রক্রিয়া করা হচ্ছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অনুমোদনহীন অনেক প্রতিষ্ঠানের বোতল ও জারে ব্যবহার হচ্ছে বিএসটিআইয়ের লোগো। পানির মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আইএসও-১৯৬৫ সনদ মেনে লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু পরবর্তিতে সে মান আর ধরে রাখছে কোন প্রতিষ্ঠান। আরো দেখা যায় অনুমোদন থাকা স্বত্তেও অনেকে আবার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যবসা করে যাচ্ছে। অনুমোদিত এমন একটি আনোয়ার ফুড এন্ড বেভারেজ এর অক্সি ড্র্রিংকিং ওয়াটার। যারা কিনা আটো রিফিল প্রক্রিয়ায় পানি বোতলজাত করার নিয়ম থাকলেও তারা সরাসরি হোস্ট পাইপ দিয়ে পানি বোতলে ভরছে এবং হাত দিয়েই ক্যাপ লাগাচ্ছে। এমনকি ব্যবহৃত ক্যাপও পুনরায় ব্যবহার করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আর ল্যাব থাকলেও ক্যামিষ্ট শেষ কবে আসছে তা খোদ স্টাফরাই বলতে পারে না।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় খাওয়ার পানি সরবরাহকারী ১০টি প্রতিষ্ঠানের লাইন্সেস আছে। আরো প্রায় ৩০টির অধিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সকলেরই লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা নাই।
বর্তমানে নগরীতে অবৈধভাবে পানি বাজারজাতকারী অন্তত অর্ধ শতাধিক কারখানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কারখানায় এখন দেদার চলছে জারে যেন তেন উপায়ে পানি ঢুকিয়ে বাজারজাতের প্রতিযোগিতা। এমন আরো অনেক প্রতিষ্ঠান ও মালিকের নাম-ঠিকানা এর চিত্র বিস্তারিত জানতে পারবেন আগামী পর্বে।
বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক (সিএম) মৃণাল কান্তি বিশ্বাস জানান, অনুমোদনহীন পানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কারখানার যন্ত্রপাতি ও লাইসেন্স ছাড়া ব্যাবসা পরিচালনার কারণে গত জুলাই মাসে নগরীতে ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তাছাড়াও আরো বহু প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করছে। আপনারা সাংবাকিরা আমাদের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করেন আমরা ব্যবস্থা নিবো।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আবদুর রাজ্জাক জানান, বিশুদ্ধ পানির নামে নোংরা পানি পান করলে ডায়রিয়া, টাইফায়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কাজেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

শেয়ার করুন
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    206
    Shares

  •  
    206
    Shares
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Share the joy

  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    206
    Shares
  •  
    206
    Shares
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য