November 14, 2018, 10:54 am

জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণে নানা ভোগান্তি এড়াতে এবং সেবার মান বাড়াতে মহাপরিকল্পনা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন এই পরিকল্পনা মধ্যে শিশুদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) দেওয়ার চিন্তা করছে সংস্থাটি। ইসির পরিচয় পত্র অনুবিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পর ৫৪ দিনের মধ্যে শিশুর হাতে পৌছে দেওয়া হবে এনআইডি কার্ডটি।

শুধু তাই নয় একবার যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া হবে সেই নম্বরই সারাজীবন বহাল থাকবে। ইসির পরিচয় পত্র অনুবিভাগ থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন বিধিমালা, ২০১০ অনুসারে ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটার হওয়ার যোগ্য নয় এমন নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া হবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী জন্ম সনদের মতো জাতীয় পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে।

তবে বিধিমালা-২০১৪ পরে প্রনণয় করা হলেও এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি অনেককে। তবে ২০১৬ সালে ১৬ বছর বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য আবেদন করার কথা বলা হয়। অনেকেই আবেদন করলেও এখন এনআইডি পাননি।

এ বিষয় জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, পরিকল্পনা অনেক আগে নেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতায় এর বাস্তবায়ন করা যায় নি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে আগামী বছর থেকে শিশুদের পরিচয় পত্র দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে।

শূন্য বছর থেকে সব নাগরিককে ইউনিক (অদ্বিতীয়) এনআইডি দেওয়া হবে। যা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই। তবে শুধু ওই আইডি ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবে না। তিনি বলেন, প্রথমে শিশুর সব ডাটা সংগ্রহ করবে জেলা বা উপজেলার জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। শিশুটির বাবা-মা কিংবা জন্ম তারিখসহ সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

এরপরে ওই শিশুটির জন্য ১০ ডিজিটের একটি আইডি নম্বর দেওয়া হবে। ওই আইডির নাম হবে ইউনিক আইডি। ওই শিশুর যাবতীয় তথ্যের সঙ্গে ১০ ডিজিটের একটি এনআইডি নম্বর সার্ভার থেকে অটোমেটিক যোগ হয়ে যাবে।

বিধিমালা প্রণয়নের এতোদিন পরেও কাজ শুরু হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদুল ইসলাম বলেন, সময় স্বল্পতা ও আর্থিক দিকসহ নানাবিধি চিন্তা করে এই প্রজেক্টের কাজ এতোদিন শুরু করা যায়নি। তবে আগামী বছর থেকে কাজ শুরুর পরিকল্পনা আছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। ১৬, ১৭ এবং ১৮ বছর বয়সী নাগরিকদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় শিশুদের ইউনিক আইডি দিতে সব ধরনের তথ্য সংযুক্ত করা হলেও শুধু বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন হবে না। এরপরে শিশুটির বয়স ৯ বছর পূর্ণ হলে তার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা হবে। কারণ ৯ বছরের আগে বায়োমেট্রিক করলে পরবর্তী সময়ে আবার পরিবর্তন করা লাগতে পারে।

শিশুরা যখন প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করবে তখন তার স্কুল থেকেই তাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বা আঙুলের ছাপ নিয়ে রেজিস্টেশন করানো হবে। এরপরও যারা বাদ পড়ে যাবে তাদেরকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করানোর সময় দ্বিতীয় ধাপে বায়োমেট্রিক করে নেওয়া হবে।

আর যাদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হবে না তাদেরকে বিভন্ন সময় নির্বাচন অফিস থেকে বায়োমেট্রিক করে নেওয়া হবে। ভোট দেওয়া ছাড়া সব কাজই চলবে ইউনিক আইডি দিয়ে।

তিনি আরো বলেন, সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া এবং তাদের সব তথ্য সংগ্রহ করা, এটা কিন্তু আমাদের একটি মহাপরিকল্পনা। হয়তো একই সময়ে সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে দেওয়া হবে। এক সময় সবাই এনআইডি কার্ড পাবে।

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কার্ড দিয়ে শুধু ভোট ছাড়া সব কাজই করতে পারবে শিশু-কিশোররা। এরপরে ১৮ বছর হয়ে গেলে তিনি নিজে নির্বাচন অফিসে গিয়ে হালনাগাদ করে আসবেন। এরপর থেকে ওই কার্ড ব্যবহার করে তিনি ভোট দিতে পারবেন। ভোটার হওয়ার আগে বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, স্কুল ও কলেজসহ যাবতীয় স্থানে এই আইডি ব্যবহার করতে পারবেন।

এই আইডি কার্ড করা গেলে অনিয়মও ঠেকানো যাবে জানিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, পুরো দেশের সব নাগরিককে জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। কিছু দিন আগে শুনলাম একজন সরকারি চাকরিজীবীর সন্তান কয়েকটি স্কুলে ভর্তি হয়ে সব স্কুল থেকেই ভাতা নিচ্ছেন। যখন একটি আইডি থাকবে তখন সে কোনোভাবেই তিন স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।

ডিজিটাল সিস্টেমে সব কিছুই আবদ্ধ থাকবে। এক শিশু তিন স্থানে ট্রিটমেন্ট পাবে না। কোনো ধরনের অন্যায় করেও পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। যদি সে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়, তবে তার দায়ভার তার বাবা-মায়ের। আমরা তার বাবা-মাকে জবাবদিহি করার ক্ষমতা রাখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category