আজ বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় ভোটে দলীয় প্রতীক নিয়ে নতুন ভাবনা আ.লীগে

দৈনিক তথ্য : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা না রাখার বিষয়ে নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিন নেতা আমাদের সময়কে জানান, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনে দেশের অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের পরাজয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের অনেক প্রভাবশালী নেতার প্রতি ক্ষুব্ধ। সে কারণে ২৯ মার্চ দলের সভাপতিম-লীর সভায় আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা হবে কিনা, এ নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই তিন নেতা জানিয়েছেন, গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়। দলীয় প্রতীক থাকা না থাকার বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নেতারা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা অবশ্য এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলা হলেও দলের পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ৫ এপ্রিল কোনো আলোচনাই হয়নি বলে জানান ওই তিন নেতা।

সভাসূত্র জানায়, আগামী পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সভাসূত্র জানায়, যারা দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন তাদের দাবি ছিলÑ যদি প্রতীক বাদ দেওয়া যায় তবে তৃণমূলে কোন্দল কমবে। পাশাপাশি এ নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে আর্থিক লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে। আর যারা দলীয় প্রতীক থাকার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন তাদের বক্তব্য ছিলÑ দলীয় প্রতীক থাকার ইস্যুটা গত টার্মে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পাস করছে। এখন তা বাদ দিলে স্ববিরোধী হয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

সভায় নেতারা বলেন, দলীয় প্রতীক থাকলে দলের সিদ্ধান্ত তৃণমূলে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়; কোনো শুভঙ্করের ফাঁকি হচ্ছে কিনা, তা চিহ্নিত করা যায়। যেমন এই নির্বাচনে পরিষ্কার হয়েছে। দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, দলীয় প্রতীক না রাখার পক্ষে মূলত তৃণমূলের নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেন ইচ্ছেমতো নির্বাচন করতে পারে সে জন্য এ দাবি তারা উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দলের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় প্রতীক থাকলেই বরং তৃণমূলের রাজনীতি শৃঙ্খলিত থাকবে।

জানা গেছে, এর আগে গত উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক না দেওয়ার পক্ষে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ বেশ কজন প্রেসিডিয়াম সদস্য অবস্থান নেন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় শেষ পর্যন্ত এটা সম্ভব হয়নি। তবে গোপালগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছিল না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব) ফারুক খান আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি সভায় নানা ইস্যু নিয়ে কথা হয়। অন্য ইস্যুর মতো এ বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। এতে পক্ষে-বিপক্ষে নেতারা কথা বলেছেন। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আমাদের সময়কে জানান, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।

কথা হয় দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে সদস্য ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও একাদশ জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আমাদের সময়কে বলেন, এটা আসলে একটা আইনগত বিষয়। এ সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তথা সরকার।

এর আগে এ নিয়ে মুখরোচক সংবাদ করার কোনো ভিত্তি নেই। দলে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। একই বক্তব্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে কিনা, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন উন্মুক্তভাবে হওয়ার ধারা ভেঙে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত পাঁচটি আইন সংশোধন করা হয়। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শুরুটা হয়েছে সিটি ও পৌরসভার মেয়র নির্বাচন দিয়ে। সর্বশেষ এটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োগ করা হয়।

 

শেয়ার করুন
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    206
    Shares

  •  
    206
    Shares
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Share the joy

  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    206
    Shares
  •  
    206
    Shares
  • 206
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য