আজ রবিবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

তথ্য ডেস্কঃ নগরীর ফুলবাড়ী গেট এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্য। বর্তমানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষনা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় কোচিং সেন্টারগুলোর বেপারেও সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে কোচিং ব্যবসায়ীরা হয়েছে সু-কৌশলী। পরিবর্তন হয়েছে সাইনবোর্ড। এখন আর কোচিং নয়। সেটি এখন অতিরিক্ত কাস নামে পরিচিত। সরকারি স্কুলেই ছুটির আগে ও পরে চলে এ অতিরিক্ত কাস। কর্তৃপক্ষ বলছে স্কুলটিতে অভিভাবকদের অনুরোধেই চলে এ কাস। ছুটির আগে ও পরে এত শিক্ষার্থী কি করে এখানে? তবে কি কোচিং এখন স্কুলের ভেতরে?
গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক স্কুলের ভেতরেই কোচিং খুলে বসেছেন। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানা যায়, জাকির স্যার, প্রতিভা ম্যাডাম, রেজা স্যার ও কবির আলম স্যার প্রতি বিষয় ৫শ’ টাকার বিনিময়ে পড়ায়। স্কুলে তারা যে বিষয় কাস নেন ঐ বিষয় ভাল রেজাল্ট করতে পড়তে হয় তাদের কাছে। গত ২০ জানুয়ারি সচিবালয়ে শিা মন্ত্রণালয়ের সভাকে জাতীয় মনিটরিং ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে এ ঘোষনা মানছে না এখানের কোচিং ব্যবসায়ীরা। কোচিং খোলা রাখতে তৈরি করেছে নতুন নতুন কৌশল।
গণিতের শিক্ষক রেজা তিনি ষাট জন ছাত্র ছাত্রীর দুইটি ব্যাচ পড়ান। স্কুলের ভিতরেই। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে পাচঁ শত টাকা নেন এমনটাই জানান শিক্ষার্থীরা। ইংরেজী শিক্ষক কবির আলম, ফিজিক্সেও শিক্ষক প্রতিভা, মোহাম্মাদ হাসান, ব্যাবসায় শিক্ষার জাকির হোসেনসহ অধিকাংশ শিক্ষকই অতিরিক্ত কাসের নামের আড়ালে এ কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছে । গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলের কোচিং সিন্ডিকেট শুধু স্কলেই সীমাবদ্ধ নয় । শিক্ষকদের বাসা বাড়িতে এবং স্কুলের সামনে প্রতিভা কিন্ডার গার্ডেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ৪তলা নতুন ভবনে গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শত শত শিক্ষর্থী কোচিং করে থাকে । এখানে যারা কোচিং করে তাদের একটি কমিশন গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পেয়ে থাকেন । সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিভাবে ল্যাবরেটরি স্কুল অভ্যন্তরে স্কুলের শিক্ষকরা ব্যাচ আকারে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছে সেটা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্য দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ।

সরেজমিনে এই প্রতিবেদক তেলিগাতি গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ঢুকতেই দেখা যায়নি কোন নিরাপত্তা কর্মীকে তবে প্রধান শিক্ষিকার দরজা বন্ধ রয়েছে। দরজার সামনে দেখা যায় স্কুলের শিক্ষক জাকির হোসেনের সাথে। তার কাছে এ প্রতিবেদক জানতে চান স্কুলে কোন লোক নেই আপনি এখানে কি করছেন জবাবে তিনি জানান ,আমি এমনিই বসে আছি। এ সময় তার কাছ থেকে প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগমের মোবাইল নন্বরটি চাইলে তিনি নান্বারটি দেন। এরপর এ প্রতিবেদক বের হয়ে আসার কিছুক্ষন পরই দেখা যায় স্কুলের অভ্যন্তর থেকে ছাত্র ছাত্রী বের হচ্ছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয় বন্ধ স্কুলে কেন আসা হয়। জবাবে শিক্ষার্থীরা জানান আমরা স্কুলে কোচিং করতে এসেছি কিন্ত আজ স্যাররা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ছুটি দিয়েছে সাংবাদিক আসছে তাই।
এ ব্যাপারে শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, আমি কোন কোচিং করাইনা। অতিরিক্ত কাশ পড়াই তা সরকারি নিয়ম মেনেই করা হয়।
এ বিষয়ে স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক খালেদা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারিভাবে যে কোচিং বা ব্যাচ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে তা আমার জানা নাই। তারপরও কেউ করে থাকলে আমি নিষেধ করে দিবো।
এই স্কুলের সকল শ্রেনীর শিক্ষক শিক্ষিকাই কোচিং বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত বলে জানায় স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষদের কোচিং বন্ধ রাখার নির্দেষ দিয়েছি কিন্তু তারা যে তারপরও কোচিং চালু রেখেছে আমার জানা নাই। কোচিং হচ্ছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের নাম জানালে তিনি মোবাইলে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন এবং সরাসরি তার অফিসে এসে চা পানের কথা বলেন এবং সংবাদটি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মেহেরুন নেছা জানান, সরকারি স্কুল গুলোর ব্যাপারে এ ধরনের কোন অনিয়ম থাকলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিবো। আপনার আমাদের তথ্য প্রমান দিয়ে সহায়তা করলে বা কেউ কোন তথ্য বা অভিযোগ দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান জানান, বর্তমানে যারা কোচিং খোলা রেখেছে তাদের ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোট রয়েছে। কোচিং খোলা পেলে জেল জরিমানা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য