আজ রবিবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১০ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে জনপ্রিয় গ্রুপ “পাওয়ারফুল গালস্”

বেল্লাল হোসেন সজল:
আধুনিক যুগের মানুষের কাছে বৈশ্বায়ন ও বিশ্বকে হাতের মুঠোতে নিয়ে আসার জন্য ফেসবুকের বিকল্প নেই। ফেসবুক হয়ে উঠেছে বিনোদন, প্রয়োজন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের এক অনন্য মাধ্যম। আর তাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে জনপ্রিয় তেমনি এক গ্রুপ পাওয়ারফুল গালস্।
২০১৬ সালের ১৬ মে যাত্রা শুরু করে গ্রুপটি। বর্তমানে দুই লক্ষাধিকের অধিক মেয়ে সদস্য রয়েছে এ গ্রুপে। জনপ্রিয় এই গ্রুপের এডমিন সেলিনা তালুকদার একান্ত আলাপচারিতায় গ্রুপের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ফেসবুক এখন আর নিতান্ত সময় ক্ষেপণের জায়গা নয়। তরুণ প্রজন্মের “এক্টিভ মেম্বার” হলে ভালো অনেক কিছুই করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তির এই সম্ভাবনার যুগে নারীর পথচলা আরও সুগম হয়েছে। থেমে নেই আমাদের নারীরাও। আমরা সাধারণত মেয়েদের নিজেদের ভেতর থাকা লুকায়িত শক্তি, দক্ষতা ও প্রতিভাকে বুঝতে, বলতে, দেখাতে পারি না। অনেকেই আছে যারা মেয়েদের তুচ্ছ মনে করে, মনে করে মেয়েরা কিছু পারে না। তাই মেয়েদের সেই শক্তি বহিঃপ্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম পাওয়ারফুল গালস্। এ গ্রুপের সকল সদস্য মেয়ে। দেশের বিভিন্ন জেলার মেয়েরা একত্রিত হয়ে গ্রুপটি শক্তিশালী করে তুলেছে। এখানে লাইভের মাধ্যমে ট্রেইলারিং, ব্লক, বাটিক, প্রসাধনী, সুস্বাদু খাবার তৈরি সহ বিভিন্ন প্রকার হস্তশিল্পের কাজ শিখানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন কবিতা ও ধারাবাহিক গল্প লেখেন গ্রুপের মেম্বাররা। যার মাধ্যমে অনেকেই গল্প লেখায় আগ্রহী হয়ে উঠছে।
২ লাখ সদস্যের অনুভূতিঃ ২ লাখ সদস্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন। অনুভূতি তো অনেক ভাল। এর পিছনে আমাদের সদস্যদের অবদানই বেশি।

বর্ষপূর্তিঃএর আগে বর্ষপূর্তিতে ‘গেট টু গেদার’ বা মিলনী এর আয়োজন করা হয়েছে। গ্রুপে সদস্যদের নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। এ দিন আমরা শুধু আমাদের গ্রুপের জন্মদিন উদযাপন করা হয়। আড্ডা, গেম শো, সংগীত অনুষ্ঠান এবং কেক কেটে আমাদের সদস্যদের নিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি কিছু সেলিব্রেটি অতিথিও থাকে। আগামীতে আমরা খুলনার কোন অভিজাত হোটেলে বড়পরিসরে বর্ষপূর্তি আয়োজন করবো।

পরিকল্পনাঃ গ্রুপের লেখাগুলো একত্রিত করে একটা বই বের করবো। নারীদের উন্নয়নে গ্রুপের সবাই মিলে কাজ করে যাবো। বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইপটিজিং মুক্ত সমাজ গড়া সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করা। পাশাপাশি গ্রুপটাকে আরও বড় হতে দেখতে চাই। সবাই গ্রুপটাকে আরও সফল হতে সাহায্য করবে এটাই আশা। আমরা গ্রুপ থেকে কিছু সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। যেমন শীত বস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের একবেলা খাওয়ানো ইত্যাদি। এখন এ কাজগুলো সীমিত পরিসরে করছি আমরা। গ্রুপ বড় হলে এ কাজগুলো বড় পরিসরে করতে পারব এমনটাই পরিকল্পনা আমাদের। শেষ কথা এটুকুই বলব যে, আমাদের গ্রুপটাকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সব সদস্যদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য