আজ বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ; অসন্তোষ বাগেরহাট-৩ আসনে দলের পক্ষে নির্বাচনী মাঠ বিএনপি’র

আরিফুর রহমান,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. ফরিদুল ইসলামের নাম ঘোষনায় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছাস ফিরে আসলেও, জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদের মনোনয়ন দাখিলে উল্টো ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী এলাকায়। আওয়ামী লীগের সাথে বারবার হেরে যাওয়া
জামায়াত এবারও প্রার্থী দিয়েছে। ঐক্য ফ্রন্টসহ বিএনপির ত্যাগী নেতা কর্মীরা মনে করছেন এবার চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনে বিএনপির
ক্লিন ইমেজের প্রার্থী ছাড়া এ আসনে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় নেতারা যেন এ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চুড়ান্ত করে আসন রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন এমনই আশা করছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। রামপাল-মোংলা এ দুই উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন। বিভিন্ন কারণে এ আসনটি প্রত্যেকটি দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ন। ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ সকল নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে এ আসনে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সহধর্মিনী হাবিবুন নাহার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। ১৯৯১ সাল থেকে কয়েকটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী বরাবরই হেরেছেন। বিএনপি সমর্থিত জোটের এ দুঃসময়ে জামায়াতের
প্রার্থী এখানে দলের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে হারানো আসনটি উদ্ধারে বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে চায় নেতা কর্মীরা। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলতে চাইলে, তারা কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলেন দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তাকেই ভোট দিব। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির পক্ষে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা অ্যাডঃ আব্দুল ওয়াদুদ মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এরপরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
রামপাল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মহসীন ইজারাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করার কারণে আমরা এ আসনটি হারিয়েছি। অবশেষে ড. ফরিদুল ইসলাম গত ১০ /১২ বছর ধরে রামপাল ও মংলা উপজেলার হাজার হাজার সাধারন মানুষকে বিনামুল্যে চক্ষ ুচিকিৎসা দিয়ে সাধারন মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অজর্নসহ বিএনপি’র সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করেছে।
সুন্দরবন রক্ষায় আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রেখে জাতীয় পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে এ দুটি উপজেলায় পোষ্টারিং এর মাধ্যমে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনকে চাঙ্গা রেখেছেন। এ বছর ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ড. ফরিদুল ইসলাম মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ায় আমরা খুবই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করাতে শুধু আমি নয় আমাদের সকল নেতাকর্মীদের মন ভেঙ্গে গেছে। আমরা চাই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে একমাত্র ড. ফরিদুল ইসলামই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করুক।
মোংলা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে বিএনপির ভরাডুবি হবে। কারণ এ আসনে বিএনপি’র হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ভোট রয়েছে যারা কখনও জামায়াতকে ভোট দিবে না। কিন্তু জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের যে সেবা করেছে তাতে তিনি ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে বিএনপির বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার  সম্ভাবনা রয়েছে। মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নিতিশ বিশ্বাস বলেন, মোংলা-রামপালে বিপুল পরিমান হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করছেন। তারা কখনও জামায়াত নেতাকে ভোট দিবেন না। কিন্তু এ আসনে বিএনপি নেতা ড. ফরিদুল ইসলাম
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আমার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি যাতে প্রার্থী চুড়ান্ত হওয়ার আগেই জাময়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা হয়। রামপাল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কারণে এ আসনে জামায়াত নেতারা বিএনপির পক্ষে প্রতিদ্বন্তিতা করেছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা বিএনপিকে ভঅলবাসলেও জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি।
এবার সাবেক ছাত্র নেতা জেলা বিএনপির সহ-
সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে তিনি বিজয়ী হবেন। কিন্তু দল থেকে এবারও যদি জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদকে প্রার্থী করা হয়, সে সিদ্ধান্ত হবে দলের জন্য আত্মঘাতি।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই থেকেই এলাকার মানুষের সুখে দুখে পাশে থেকেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভালবাসে। তারা চায় আমি ধানের শীষ প্রতীকে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করি।
তিনি আরও বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আশাকরি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী দল আমাকে এ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ দিবেন। ইন-শা-আল্লাহ জয় আমাদেরই হবে। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য