November 14, 2018, 10:53 am

‘শান্তির ধর্ম ইসলামের খেদমত করতে চাই’

অনলাইন ডেস্কঃ ইসলামের জন্য কিছু করে যেতে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহমম্দ এরশাদ এমপি।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে ইসলামের জন্য অনেক কিছু করেছি। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে এসব করেছিলাম। শান্তির ধর্ম ইসলামের খেদমত করতে চাই। শেষ জীবনে ইসলামের জন্য কিছু করে যেতে পারলে খুশি হতাম। এজন্য দেশের আলেম উলামাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের জন্য লড়াই করি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরীক শরীয়াহ্ আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, আমি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছি, শুক্রবার বন্ধ ঘোষণা করেছি। দুপুরে নামাজের বিরতি দিয়েছি। মসজিদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদকে সৌন্দয্যবর্ধন করে সম্প্রসারণ করেছি। ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলাম। কেন করেছি? ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে এসব করেছি।

তিনি দুঃখ করে বলেন, দ্বীনি শিক্ষা এখন সবার জন্য আর বাধ্যতামূলক নাই। আমি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর ১০০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। পরে দ্বীনি শিক্ষা বাধ্যতামূলকই বাদ দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ পাক ও তার প্রিয় হাবিব সম্পর্কে জ্ঞানার্জন মুসলমানদের জন্য ফরজ। এখন আমরা সেই শিক্ষা দিতে পারি না।

‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিলাম। পরবর্তীতে এটি বাতিল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পারে নাই। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আমি বলেছিলাম বাতিল করলে আল্লাহ নারাজ হবেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বাতিল করেননি। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও থাকবে- বলেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি।

দেশের আলেম ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন- ইসলামের কথা শুনলে মানুষ ঘৃণা করে, রিফুজি মনে করে। আমার দেশে আমি থাকতে পারব না। পশ্চিমারা আমাদের সন্ত্রাসী বলে। ডেমোক্র্যাসি নাই এই অপরাধে ইরাক, লিবিয়া ধ্বংস করা হলো। সিরিয়া ধ্বংসের পথে। বিদেশিরা এই কথা বলে একের পর এক ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইসলামের পক্ষে কথা বলার কেউ নাই। কারণ, আমাদের মধ্যে ঐক্য নাই। কাতার একদিকে, সৌদি আরব একদিকে। তাদের মত দেশের মুসলমানদের মধ্যেও ঐক্য নাই। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলামকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না।

তিনি বলেন, এক আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) হলো আমাদের বিশ্বাস। ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম, শান্তির পথ। ইসলামকে রক্ষা করতে হলে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এরশাদ। তিনি বলেন, দিন বদলাচ্ছে, পরিবর্তন হচ্ছে, ছনের ছনের ঘর থেকে টিনের ঘর হয়েছে। কিন্তু সেই টিনের ঘরের ভেতরের মেয়েটি কি অবস্থায় আছে কেউ কি জানার চেষ্টা করেছেন। টিনের ঘরের সেই ছেলেটি বেকার না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। বাইরে থেকে ঘর দেখে মুগ্ধ হয়েছি, কিন্তু ভেতরের অবস্থা জানার চেষ্টা করি না। বাস্তবে সমাজের অবস্থা কি ? আপনারা জানার কি চেষ্টা করেছেন।

‘চাকচিক্য শুধু ঢাকায়, ঢাকার বাইরে গ্রাম-গঞ্জে অবস্থা ভাল না। মানুষ গ্রাম-গঞ্জে অসহায় হয়ে পড়েছে। সংসার চলে না, উপার্জনের জন্য শহরমুখী হচ্ছে। এসে বস্তিতে বসবাস করছে। সেই মানুষগুলোও মাথা গোজার ঠাঁইও আগুনে পুড়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে কি দেশ চলতে পারে? যোগ করেন এরশাদ।

তিনি বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। এত মানুষের আহাজারি। আল্লাহ সহ্য করবেন না। পরিবর্তন আসবেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরিবর্তন করবেন। তবে আমাদের সবাইকে ইসলামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে হবে, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।

২৪ মার্চ ঢাকার মহাসমাবেশে দলে দলে যোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, অনেকেই বলে জাতীয় পার্টি দূর্বল। ২৪ মার্চ আমরা দেখাতে চাই, আমরা দূর্বল নই। আলেম সমাজ আমাদের সঙ্গে আছেন। সবাই আসবেন। এই মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

শরীয়াহ্ আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, আল্লামা রুহুল আমিন খান উজানভী, ড. মুফতী মুহিব্বুল্লাহ বাকী আন নদভী, আল্লামা মুফতী নুর হোসাইন নুরানী, আলহাজ আবুল হাসনাত, মাও আব্দুল লতিফ চৌ, মাও. মোহাম্মদ মাসুদ বিল্লাহ প্রমুখ।

জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের জন্যই আমাদের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে। ইসলামের খেদমত করার জন্য, দেশ ও জাতির জন্যই পল্লীবন্ধু এরশাদকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের আজ কি অবস্থা সবাই ভাল করে জানেন। আমি পার্টির মহাসচিব অনেক কিছুই বলতে পারি না। আপনারা আমার কথায় বুঝে নেবেন। পরিবর্তন দরকার। দেশের মানুষ শান্তি চায়, পরিবর্তন চায়। আর পরিবর্তন করতে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।’ তিনি দেশ বাঁচাতে আলেম উলামাসহ সর্বস্তরের মানুষকে এরশাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মো. সফিকুল ইসলাম সেন্টু, বিএনএ মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, জাপার যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল আলম রুবেল, বিএনএ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, জাপা সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, ওলামা পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এস এম আল জুবায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category