তথ্য প্রতিবেদক : ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে অশালীন আচরণ, শ্লীলতাহানী, অন্যের জমি দখল, আওয়ামীলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য, মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতক্ষীরা জেলার ৭৪ নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে।
সরকারী আদেশ অমান্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জেল খাটার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে সাময়িক বরখাস্ত হলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে গিয়ে আগের মতই নিজের খবরদারী চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভাগীয় পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা খুলনা বিভাগ, খুলনা বরাবরে এলাকাবাসী প্রেরিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলাধীন ৭৪নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হককে অত্র বিদ্যালয়ের পদায়নের পর থেকে বিভিন্ন কোচিং বানিজ্য চালিয়ে সুন্দরী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলফল, আর্থিক সুবিধা সহ একাধিক প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জীবন নষ্ট করেছে।
এসবের বিরুদ্ধে কোন শিক্ষার্থী মুখ খুললে ভর্তি বাতিল, আর্থিক সুবিধা বঞ্চিত ও কোন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে কথা বললে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেওয়াসহ আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীকাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ বানিজ্যে প্রার্থী প্রতি ৫-৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আওয়ামীলীগ সরকারের ছত্র ছায়ায় থাকায় নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আনোয়ারুল মাষ্টার অত্র এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের গরীব অহায় ব্যক্তিগণের বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার পোষা ভূমিদুস্যুদের দিয়ে বসত বাড়ী, দোকান পাট সহ জমি জায়গা জবর দখল করিয়েছেন।
সম্প্রতি শিক্ষক আনোয়ারুল হক ও তার শ্যালক গং সহ তার পোষা ভূমি দুস্যুদের নিয়ে চৌমুহনী নামক হিন্দু সম্প্রদায়ের "প্রসাদ বিশ্বাস ও প্রদীপ বিশ্বাস" এর বসত বাড়ী সহ ভিটা জমি গায়ের জোরে জবর দখল করে নিয়েছে। উক্ত আনোয়ারুল মাষ্টার এর আগে দেবহাটা উপজেলাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল কর্মরত থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার ভিডিও ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলে অত্র এলাকার অভিভাবকগণ ঝাড়ু পেটাসহ ঝাড় মিছিল করে অত্র উপজেলা থেকে বিতাড়িত করে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে তার তদন্ত হয়েছে। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমি ২০০১ সাল থেকে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এলাকার সব মানুষের কাছে ভালো থাকা যায় না, কয়েক জন শিক্ষকও আমার পিছনে লেগে আছেন। তিনি আরও বলেন, শতভাগ ভূয়া একটা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয় আমার বিরুদ্ধে। সেই মামলার কারণে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া ছাত্রীদের শ্লীলতাহানী, যৌন আচরণসহ অন্যান্য অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শেখ তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদকঃ মো: হুমায়ুন কবীর
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৩১ বি কে রায় রোড,খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ বাড়ি নং-২৮, রোড নং-১৪, সোনাডাঙ্গা আ/এ (২য় ফেজ) খুলনা থেকে প্রকাশিত ও দেশ প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন, ৪০ সিমেট্রি রোড থেকে মুদ্রিত।
যোগাযোগঃ ০১৭১৩-৪২৫৪৬২
ফোন : ০২-৪৭৭৭২১০০৫, ০২-৪৭৭৭২১৩৮৩
ই-মেইলঃ dailytathaya@gmail.com
কপিরাইট © দৈনিক তথ্য । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত