আজ শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

২৫০ ফর্মুলা থেকে ভ্যাকসিন তৈরি, করোনা এবার নির্মূল হবে পৃথিবী থেকে!: অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীদের দাবি

তথ্য ডেস্ক: মারণ ভাইরাস করোনার প্রকোপে থরহরিকম্প গোটা বিশ্বে। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। মারণ ভাইরাসের প্রতিষেধক না থাকায় কার্যত বিনা চিকি‍ৎসাতেই প্রাণ হারাতে হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার বেশি মানুষকে। মারণ ভাইরাসের আক্রমণে আরও কত প্রাণ যাবে, তা নিয়ে যখন জোর চর্চা ঠিক তখনই সুখবর শোনালেন অস্ট্রেলিয়ার তিন বিজ্ঞানী। ইতিমধ্যেই প্রাণঘাতী করোনা নির্মূলে ২৫০ ফর্মূলা নিয়ে বিশেষ ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন কেইথ চ্যাপেল, পল ইয়ং এবং ট্রেন্ট মুনরো। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ন্যানোটেকনোলজি ল্যাবে ‘এস স্পাইক’ নামে ওই প্রতিষেধক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদপত্রের সাংবাদিককে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করার দাবি জানিয়ে কেইথ চ্যাপেল বলেছেন, ‘গবেষণাগারে ২৫০ টি ভ্যাকসিনের ফর্মূলা বানানো হয়েছিল। তার থেকেই এস-স্পাইক ভ্যাকসিনকেই করোনা-রোধের আদর্শ ওষুধ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সার্স-সিওভি-১৯ ভাইরাল স্ট্রেনের স্পাইক প্রোটিন হোস্ট সেলের সঙ্গে জোড় বাঁধার আগেই তাকে থামিয়ে দিতে হবে। বিষদাঁত ভেঙে দিলেই আর আক্রমণ করতে পারবে না করোনা।’

কী এই ‘এস-স্পাইক’ ভ্যাকসিন? অধ্যাপক এবং গবেষক মুনরোর কথায়, ‘করোনার সংক্রামক রোগ কোভিড-১৯ এর সঙ্গে একদিকে যেমন মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম (মার্স)-এর মিল আছে, তেমনি কিছুটা হলেও মিল রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে। এই ভাইরাল স্ট্রেনের কাজই হল হোস্ট সেলের প্রোটিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে কোষে প্রবেশ করা। তার পর ফুসফুসের দফারফা করে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ বিকল করা। তাই গোড়াতেই যদি মোক্ষম আঘাত হানা যায় অর্থাৎ, ভাইরাল প্রোটিনকেই রুখে দেওয়া যায় তাহলে সে আর বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারবে না। নতুন এই ড্রাগে রয়েছে ল্যাবে বানানো পলিপেপটাইড অর্থাৎ অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিকুয়েন্স যা ভাইরাল প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে।

চিনের বাইরে এই প্রথম কোনও ল্যাবোরেটরিতে নোভেল করোনাভাইরাসের জিনম সিকুয়েন্স তৈরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালের চিকি‍ৎসক তথা পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরির প্রধান জুলিয়ান ড্রুস এবং ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের উপ অধিকর্তা মাইক ক্যাটন। বিশিষ্ট গবেষক-চিকি‍ৎসক মাইক ক্যাটন জানিয়েছেন, রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালে ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে সেখান থেকেই করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে। টিস্যু কালচার ল্যাবে এই ভাইরাস তৈরি করে তার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসক-গবেষক মাইকের কথায়, ‘ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, কীভাবে এই মারণ-ভাইরাসকে রোখা যাবে।’ ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের আরও গবেষক জুলিয়ান ড্রুসের দাবি, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার বড় চমক আনতে চলেছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নির্মূল হবে পৃথিবী থেকে।’

অন্যদিকে, আমেরিকার মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ (এনআইএইচ) সোমবার প্রেস বিবৃতি জারি করে দাবি করেছে, ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি সম্পূর্ণ। আজ থেকেই তার ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে। প্রথমে ইঁদুরের উপর ও পরে মানুষের উপর প্রয়োগ করা হবে। সিয়াটেলের কাইসার পার্মানেন্ট ওয়াশিংটন হেল্থ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলেছেন, ভ্যাকসিন এখনও পরীক্ষামূলক স্তরেই আছে। আরও ১৮ মাস সময় লাগবে পুরোপুরি এই ভ্যাকসিনকে বাজারে আনতে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থের তৈরি প্রতিষেধকের ফর্মুলা এখনও সামনে আনেননি গবেষকরা। জানা গিয়েছে, ৪৫ বছরের এক রোগীর উপর এই প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই রুগী চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ