আজ শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সমন্বয়হীনতায় ঝুঁকি বাড়ছে সুন্দরবনে ((১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের দাবি))

ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদঃ বন বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়হীনতায় সুন্দরবনে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর পাশাপাশি বনে এর ওপর নির্ভরশীল পাখির সংখ্যাও কমছে। সেই সঙ্গে বনের বিভিন্ন অংশে গাছ কর্তন ও বন্যপ্রাণী নিধন করা হচ্ছে।
এ অবস্থার নিরসনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের দাবি উঠেছে। এতে সুন্দরবন সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা তৈরি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
জানা যায়, বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি ও ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনার জায়গা এই সুন্দরবন। কিন্তু বন বিভাগ ও বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়হীনতায় সুন্দরবনে পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে। বেসরকারি সংগঠন সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, সুন্দরবন ঘিরে সমস্যা অনেক।
বিষ দিয়ে মাছ মারার কারণে সুন্দরবনে নদী-খালের পানি বিষাক্ত হচ্ছে। এর ওপর নির্ভরশীল পাখি কমে যাচ্ছে। যদিও ইতিবাচক অনেক দিক আছে। এর পরও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। বন বিভাগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বেসরকারি সংস্থা, উপকারভোগী, মিডিয়া কর্মী সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জানা যায়, সুন্দরবন সুরক্ষার দাবিতে ২০০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। ওই বছর বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথমবার জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল এ উপলক্ষে রূপান্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে পালনের দাবি উঠেছে। এতে সুন্দরবন সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা তৈরি হবে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বন গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, এখন যেসব জায়গায় অপারগতা রয়েছে, জনবল ঘাটতি রয়েছে, সুন্দরবন ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারছে না- সেই জায়গাটা আরও বেশি সুরক্ষিত হবে, যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে দিনটিকে পালন করা যায়।
একই সঙ্গে এখানে সমন্বিত একটা দায়বদ্ধতা থাকা দরকার। এদিকে বনের সুরক্ষায় পরীক্ষামূলক নমুনা প্লট তৈরিসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানালেন বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আ স ম হেলাল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সুন্দরবনের ৩৩টি স্থানে স্থায়ী নমুনা প্লট স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে লবণাক্ত জমিতে গাছের চারা জন্মানো, চারা মারা যাওয়া ও গাছের বৃদ্ধির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা বন রক্ষায় সিদ্ধান্ত ও প্রকল্প গ্রহণে সহায়ক হবে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য