আজ শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ৬৫ দিন পর তদন্ত শেষে রবিবার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ বিকাল সাড়ে ৪ টায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৬ জুন বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলা তদন্ত শেষে ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/২১২/১০৯/১১৪/১২০-বি (১) ধারায় আদালতে আভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ৬১৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত অভিযোগ পত্রে ২৪ জন আসামির মধ্যে ১৪ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

মামলার অন্যতম স্বাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে অভিযোগ পত্রে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে শিশু আইনে পৃথক অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে। ২৪ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত পুলিশ ১৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ১৫ জন এবং পলাতক ৪ জনসহ মোট ১৯ জন ছাড়া অন্য ৫ জনের নাম চার্জশিটের কপি হাতে না পাওয়ায় জানা যায়নি।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হচ্ছেন- রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হৃদয়, সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবন, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

মামলার এজাহারভূক্ত ৫ নম্বর আসামি মুসা বন্ড, ৭ নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামি রায়হান ও ১০ নম্বর আসামি রিফাত হাওলাদারকে এখনও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এজাহারভুক্ত ৪ জনসহ ৫ জন আসামি পলাতক রয়েছে। এদিকে মামলার অন্যতম সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে পুলিশ আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কি জবানবন্দি দিয়েছেন এবং কেন তাকে তদন্তে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযোগপত্রে যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগপত্রের বিস্তারিত না পাওযায় তা এখন পর্যন্ত যানা যায়নি। এদিকে মামলার আসামি আরিয়ান শ্রাবণসহ বেশ কয়েকজনের জামিন আবেদন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানির জন্য মূল নথি দায়রা জজ আদালতে থাকার কারণে অভিযোগপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ