আজ শনিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাতের আঁধারে চলছে অতিথি পাখি নিধন; বড় পাখি ৩০০ টাকা, ছোট পাখি ১৫০ টাকা

তথ্য প্রতিবেদক: এ বছর তেমন কোনো পাখি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এবার পাখির দাম চড়া। বড় পাখি ৩০০ টাকা এবং ছোট পাখি ১৫০ টাকা। দাম নিয়ে কথা বলা যাবে না। পাখির চাহিদা অনেক। অ্যাডভান্স দিয়ে পাচ্ছে না। তাছাড়া এই কাজের জন্য আবার স্থাীনয় আড়ংঘাটা থানা ও স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশকে মাসে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া লাগে। আড়ংঘাটা লতা এলাকার কুমারেশ ও রংপুর এলাকার আনন্দ মন্ডল ও পম্পি মাসিক কালেকশন করে থানায় টাকা জমা দেয়। শুধু আমিই না, এখানের সকল পাখি শিকারিদের টাকা দেওয়া লাগে পুলিশকে। তাই আমরা যা পাখি পাই, তা আমরা ভোর হওয়ার আগেই হস্তান্তর করে দেই।

খুলনা আড়ংঘাটা থানাধিন বিলপাবলা এলাকার পাখি শিকারি অনুপ দাশ এভাবেই পরিস্থিতি জানালেন।
জানা গেছে, অতিথি পাখি মূলত সূদুর সাইবেরিয়া হিমালয় থেকে শীত মৌসুমে খাবার আর নিরাপদ আশ্রয় জন্য হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে ঠান্ডা রোদ আবহাওয়ার দেশ বাংলাদেশে। পাখির কিচির মিচির শব্দে বিল ঝিলগুলো মুখরিত হয়। আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাতাড়ি, পানকৌড়ি, হাঁস, কাদা খোচা, হুরহুর, খয়রা, বালি হাঁস, গাংচিল, ডাহুক, নলডাক, ভাড়ই, জলপিপিসহ অনেক প্রজাপতির পাখি আসে এ অঞ্চলে। যা রাতে আঁধারে কিছু অসাধু চোরাকারবারী ফাঁদ পেতে শিকার করে।
সুসাশনের জন্য নাগরিক সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক কুদরত এ খুদা বলেন, অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দ্বারা জনগণকে সচেতন করতে হবে। তাহলে হয়তো অনেক পাখি শিকার কমে যাবে। জেলা প্রশাসনকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
খুলনা বিভাগীয় সামাজিক বন ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মদিনউল আহসান বলেন, অতিথি পাখিগুলো সাধারণত তেরখাদা, ডুমুরিয়া বিল ডাকাতিয়া ও সাহাপুর আড়ংঘাটা এলাকার বিলে থাকে। তাছাড়া পাখি চোরাকরাবারীদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতি বছর অভিযান পরিচালনা করি। এ বছরও আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। পাখি শিকারিদের কোনো ছাড় হবে না।
খুলনা জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, অতিথি পাখি শিকার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচলনা করি। কাউকে পাখিসহ ধরা গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ