আজ শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মোংলা চ্যানেল দিয়ে গভীর ড্রাফের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু

নানামুখী পদক্ষেপের ফলে মোংলা বন্দরে উন্নতির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দরের আউটার বারে ড্রেজিংকৃত নতুন চ্যানেল দিয়ে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে।

মোংলা বন্দরের এ্যাংকোরেজ এলাকায় ১০.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিং এর উদ্দেশ্যে ‘মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং’ প্রকল্পটি মোট ৭১২.৫০ কোটি টাকা প্রক্কলিত ব্যয়ে একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে হংকং রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং কোং লিমিটেড ও চীন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সস্ট্রাকশন কর্পোরেশন জেভি।
এর সাথে ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর হতে ঠিকাদার ড্রেজিং শুরু করে। ড্রেজিং এলাকাটি দুইটি সেকশনে বিভক্ত যার মধ্যে একটি সেকশন হিরণ পয়েন্ট হতে প্রায় ২০ কিঃ মিঃ দক্ষিণে উন্মুক্ত সাগরের মধ্যে এবং অপর সেকশন হিরণ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সমুদ্রের মধ্যের সেকশনটি সম্পূর্ণ এবং হিরণ পয়েন্ট সংলগ্ন সেকশনটির প্রায় ৮৫% ড্রেজিং সমাপ্ত হওয়ায় ফেয়ারওয়ে বয়া হতে হিরণ পয়েন্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ চ্যানেলে ৮.৫ মি. সিডি গভীরতা সম্পন্ন চ্যানেল সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য এই চ্যানেলটি বর্তমানে ব্যবহৃত চ্যানেলের পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু চরের পাশ দিয়ে অবস্থিত। বর্তমানে বিদ্যমান চ্যানেলে ফেয়ারওয়ে বয়া হতে হিরণ পয়েন্ট পর্যন্ত কিছু স্থানে সর্বনিম্ন ৬.৫ মি. সিডি গভীরতা থাকায় বেশি ড্রাফটের জাহাজ বন্দরে আসতে পারত না। অথচ হিরণ পয়েন্টের পর হতে হারবাড়িয়া এ্যাংকোরেজ পর্যন্ত ৮.৫ মি. সিডি এর অধিক গভীরতা রয়েছে এবং কিছু এ্যাংকোরেজে ১০.৫ মি. এর অধিক ড্রাফটের জাহাজ বার্থিং করার জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা আছে। শুধুমাত্র আউটার বারের সীমাবদ্ধতার জন্য বন্দরের এ্যাংকোরেজে বেশি ড্রাফটের জাহাজ আনা যেত না।
এছাড়া বর্তমান চ্যানেলটি বেশ আঁকাবাঁকা। আউটার বারে ৮.৫ মি. সিডি গভীরতায় ড্রেজিং এর ফলে জোয়ারের সময় বন্দরে এখন ১০.৫ মি. ড্রাফটের জাহাজ আসার সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ড্রেজিংকৃত চ্যানেলে নেভিগেশন বয়া স্থাপন করার পর আজ ১৭ নভেম্বর হতে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। নতুন চ্যানেলটি অপেক্ষাকৃত সোজা হওয়ায় সেখান দিয়ে বন্দরে জাহাজ আসতে সময় কম লাগছে এবং জাহাজ নিরাপদে আসতে পারছে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের সংখ্যা ও রাজস্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৫% এবং অবশিষ্ট কাজ প্রকল্পের মেয়াদ এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য