আজ শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারতে অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল নিয়ে সেরামকে শো-কজ ড্রাগ কন্ট্রোলের, কোভিশিল্ডের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ব্রিটেনের ঘটনার উল্লেখ করে সেরামকে পাঠানো নোটিশে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভি জি সোমানি জানতে চেয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে যেখানে টিকার ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা সেখানে কীভাবে এখনও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে সেরাম।

অক্সফোর্ডের টিকা নেওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবকরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ট্রায়াল স্থগিত রেখেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। টিকার ইঞ্জেকশনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে সে ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেনি তারা। এদিকে এর প্রভাব পড়েছে ভারতেও। অ্যাস্ট্রজেনেকা টিকার ট্রায়াল বন্ধ করলেও ভারতে অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থামায়নি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। যে কারণে বুধবার রাতে সেরামকে শো-কজ নোটিশ পাঠায় ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিজিসিআই)।

ব্রিটেনের ঘটনার উল্লেখ করে সেরামকে পাঠানো নোটিশে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভি জি সোমানি জানতে চেয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে যেখানে টিকার ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা সেখানে কীভাবে এখনও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে সেরাম। সোমানি আরও জানতে চান, অক্সফোর্ডের টিকার প্রভাবে ব্রিটেনের স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট কেন জমা করেনি সেরাম। অক্সফোর্ডের টিকায় কী গলদ দেখা গেছে সে নিয়েও সেরাম কিছু জানায়নি। যতক্ষণ না সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ড্রাগ কন্ট্রোলের বক্তব্য, যে কোনও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে যদি স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে সামান্যতমও প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই সেই ট্রায়াল বন্ধ করে দেওয়াই নিয়ম। সেরাম সেখানে হাজার জনেরও বেশি মানুষের শরীরে টিকার ইঞ্জেকশন দিচ্ছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের চূড়ান্ত ট্রায়ালে রয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

ড্রাগ কন্ট্রোলের পাঠানো নোটিশের জবাবে আজ সেরাম জানিয়েছে, সরকারের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলতে তারা বাধ্য। সংস্থার সিইও আদর পুনাওয়ালার দাবি, ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি কোভিশিল্ড টিকার কোনও খারাপ প্রভাব এখনও দেখা যায়নি। তাই টিকার প্রয়োগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আদর জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ১০০ জনকে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনও অবধি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যায়নি। আগামী দিনেও কোভিশিল্ড টিকা ঝুঁকির কারণ হবে না বলেই দাবি তাঁর। সেরামের বক্তব্য, অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় কিছু সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে সেই ব্যাপারে তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। আশা করা যাচ্ছে গোটা বিষয়টা অনুসন্ধান করে তারা শিগগিরই টিকার ট্রায়াল শুরু করে দেবে।

দুই পর্বে মোট ১৬০০ জনকে টিকা দিচ্ছে সেরাম। , ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর অবধি স্বেচ্ছাসেবকদের টিকার ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট ও অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়েছে। কোনও ক্রনিক রোগ থাকলে টিকার ডোজ দেওয়া যাবে না। তাই বহুবার শারীরিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন ডাক্তাররা। গর্ভবতী মহিলারা এই ট্রায়ালে অংশ নিতে পারবেন না। তাছাড়া, হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কিডনি ফেলিওর বা অন্য কোনও জটিল রোগ থাকলেও টিকার ট্রায়ালে অংশ নেওয়া যাবে না।

সেরাম জানিয়েছে, দেশের মোট ১৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে টিকার ট্রায়াল হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ (এইমস), পুণে বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুর-এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য