আজ সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল সীমান্তে ওপারে ভারতের বনগাঁ লজে আসমা খুনের আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার।

মিলন হোসেন বেনাপোল।

বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের বনগাঁ  শ্যামাপ্রসাদ লজে যশোর পুরাতন কসবা  এলাকার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী আসমা ইসলাম  হত্যার আসামি তারই পরকীয়া প্রেমিকা বাংলাদেশে ছদ্মবেশ ধারনকরা খুনি ড্রাইভার কাসেমকে ৫ মাস পর যশোর ডিবি’র একটি চৌকষদল ছদ্মবেশ ধারন করে ঢাকা পল্লবী থেকে গ্রেফতার করেছেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে ঢাকার পল্লবী থেকে কাসেমকে আটক করেন যশোর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। এ সময়ে জব্দ করা হয় ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও আসামীর পাসপোর্ট।
উল্লেখ্য যশোর কোতয়ালী থানাধীন পুরাতন কসবা এলাকার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী আসমা ইসলাম এবং তার খালা মনোয়ারা বেগম (৫৫) গত ১৫ই জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারতের বনগাঁয়ে যায়। সেখানে শ্যামা প্রসাদ লজ  নামের একটি হোটেলে অবস্থান করে। ১৬ই  জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে হোটেলের আরেকটি তালাবন্ধ কক্ষে আসমা ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই সংক্রান্তে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঘটনা সংক্রান্তে বনগাঁ থানার মামলা নং-৩৩ তাং-১৬/০১/২০২০ ইং ধারা-৩০২ পেনাল কোড রুজু হয়। ভিকটিম আসমা ইসলামের আত্মীয় স্বজন সংবাদ পেয়ে ভারতের বনগাঁ থানা থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে ভিকটিমের ভাই আজিম উদ্দিন (৩২), পিতা- মৃত আজগর আলী, সাং- ডাকাতিয়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর হত্যাকান্ডের সাথে আসমা ইসলামের পরকীয়া প্রেমিক ড্রাইভার কাশেম আলীকে  আসামি করে যশোর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, আমলী আদালতে গত ৩০ই   জানুয়ারি ২০২০ ইং একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগের বিষয়টি এফআইআর গ্রহনের জন্য আদেশ প্রদান করিলে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-০৯ তাং-০৫/০২/২০২০ ইং ধারা-৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। মামলাটি গত ১৪ই মে ২০২০ ইং তারিখে পুলিশ সুপার, যশোর মহোদয় জেলা গোয়েন্দা শাখায় তদন্তের জন্য ন্যাস্ত করেন।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ মারুফ হোসেন জানান,যশোরের পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন পিপিএম মহোদয়ের  নির্দেশে মামলাটি  গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবির) অফিসার ইনচার্জ এর  হাতে আসে। এরপর ডিবির আইটি শাখার এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীর অবস্থান সনাক্ত করে ছদ্মবেশ ধারন করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক সোমেন দাস এর নেতৃত্বে এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএমসহ একটি দল ৩০শে মে২০২০ ইং রাত সাড়ে বারোটার দিকে ঢাকা মিরপুর পল্লবী বাউনিয়াবাদ বস্তি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত আসামী কাশেম আলীকে গ্রেফতার করেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  ভিকটিম আসমার সাথে ধৃত আসামী ড্রাইভার কাসেমের পরকীয়া প্রেম, অবৈধ সম্পর্ক  ও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। যার প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আসমাকে তার স্বামী শাহানুর তালাক দেয়। পুনরায় ভিকটিম আসমা তার স্বামী শাহানুরের সাথে ঘর সংসার করার সিদ্ধান্ত নিলে আসামী কাসেম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং এক পর্যায়ে ভারতের হোটেলে নিয়ে তাকে হত্যা করে।
প্রেরক
মিলন হোসেন বেনাপোল
তারিখ ৩১/০৫ /২০২০
মোবাইল ০১৭১২২১৭১৪৩

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য