আজ মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল চেকপোস্টে চালু হয়নি এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্বোধন করা ট্রলি।কুলিরা করছে ল্যাগেজ ব্যবসা।

মিলন হোসেন বেনাপোল ।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে  গত ৭ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যান পাসপোর্টযাত্রীদের ভোগান্তি দূর করার জন্য ট্রলি উদ্বোধন করলেও এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
দীর্ঘ ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এনবিআর চেয়ারম্যানের ট্রলি উদ্বোধনের পর তা চালু না করে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যানকে উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ট্রলি চালু না থাকায় কিছু কুলি রমরমা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ল্যাগেজ ব্যবসা।

সূত্র জানায়, গত এক মাস আগে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বেনাপোল বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে যাত্রীদের ল্যাগেজ বহনের সুবিধার্থে ট্রলি চালুর উদ্বোধন করেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর কোন এক অদৃশ্য কারনে সে ট্রলি চালু হয়নি। ট্রলি গুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় মজুদ রাখা হয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছে ট্রলি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে ঠিকই আদায়, করা হচ্ছে ৪৫ টাকা ট্র্যাক্স। রশিদে লেখা আছে ৪১.৭৫ টাকা। কিন্তু প্যাসেঞ্জার চার্জস্লিপ নামে আদায় হচ্ছে ৪৫ টাকা। যা বর্হিবিশ্বের কোথাও এমনটি নাই বলে দাবি করে সূত্রটি।

বাংলাদেশের ঢাকার পাসপোর্টযাত্রী সুমি বেগম জানান, আমাদের নিকট থেকে কি কারনে এই ৪৫ টাকা নিচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। নেই বসার স্থান, রেষ্টুরেন্ট, শুধু রয়েছে অপরিচ্ছন্ন টয়লেট। রোদ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। আমাদের ভারত থেকে আসার পথে ট্রলি দিলে আমরা আমাদের ল্যাগেজ নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে ইমিগ্রেশন কাস্টমসে প্রবেশ করতে পারি। এতে আমাদের ল্যাগেজ ঝুকিতে থাকে না। অপরদিকে এ পথে আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়।  যশোরের পাসপোর্ট যাত্রী সোহরাব হোসেন বলেন, (পাসপোর্ট নং- বি ওয়াই ০৭৯৭৬২৭) ভারত থেকে তার অসুস্থ্য মাকে নিয়ে আসার সময় ট্রলি বা হুইল চেয়ারের জন্য অনুরোধ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে কোন ব্যবস্থা করে দেই নাই। আমি খুব কষ্টে মাকে নিয়ে নোম্যান্সল্যান্ড থেকে বাস স্টান্ড পর্যন্ত আসি।

এ দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বন্দর কর্তা জানান, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ৭/৮ জন কুলিকে ল্যাগেজ ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে।এর বিনিময়ে ঐ সমস্ত কুলিদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক টাকা নিয়ে থাকেন। ল্যাগেজ ব্যবসায়ী কুলিদের মধ্যে গডফাদারে নাম রয়েছে জুয়েল কুলি নাম্বার ১৭৪)নুরু কুলি নাম্বার ২১৩)মিলন কুলি নাম্বার ৮১)সোহেল কুলি নাম্বার ৭৬)হারুন ও রানা। এদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম চেক করলে কোন কোন প্রশাসক এর সাথে চুক্তি করে এ ব্যবসা করছে তা বেড়িয়ে পড়বে। এই কুলি গুলো আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করলে কুমে যাবে ল্যাগেজ ব্যবসা।এদের কারনে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব।

এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের উপ- পরিচালক মামুন কবির তরফদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে কাস্টমসের ১০০ ট্রলি দেওয়ার কথা । কিন্তু দিয়েছে মাত্র ৫০টি । ঈদের পর ট্রলি গুলোর নাম্বারিং করে পূর্ন মাত্রায় চালু করব বলে আশা করছি।কুলিদের দিয়ে ল্যাগেজ ব্যবসা করানো হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে জান।
প্রেরক
মিলন হোসেন বেনাপোল
তারিখ ০৯/০৮/১৯
মোবাইল ০১৭১২২১৭১৪৩

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ