আজ মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল এক্সপ্রেসের’’ ট্রেনের টিকিট কালোবাজা বিক্রয় হচ্ছে। 

মিলন হোসেন বেনাপোল ।
যশোরের বেনাপোল বন্ধরনগরীতে সদস্য চালু হওয়া ‘‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। মাস্টার ও প্রধান বুকিং সহকারী মিলে সার্ভারে টিকিট অটো ব্লক রেখে যাত্রীদের টিকিট সংকট দেখায়। পরে সেই সব টিকিট উচ্চ মুল্যে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। স্টেশনের আশপাশের দোকানদারও রেলের নিরাপত্তা কর্মী ও এলাকার চি‎িহ্নত চক্রের মাধ্যমে এসব টিকিট উচ্চ মুল্যে টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব টিকি কালবাজারীদের অন্যতম সদস্য বেনাপোল রেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আলতাফ হোসেন।
এ নিরাপত্তারক্ষীর প্রধান কাজ রেলের মালামালও রক্ষনাবেক্ষণ হলেও তিনি আগে থেকে কাউন্টারের টিকিট ক্রয় করে রাখেন। এর পর সারা দিন হ্যান্ডকাপ কোমরে নিয়ে স্টেশনের বুকিং কাউন্টারের সামনে ঘোরা ফেরা করেন। যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে স্টেশন চত্তরে ঘোরা ফেরা করে। এ সুযোগে নিরাপত্তাকর্মী আলতাফ নিজেকে রেলের নিরাপত্তা কর্মী পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের কাছে হাজার ২৫ টাকার টিকিট ১৮শ’ থেকে ২হাজার টাকা,৫শ টাকার টিকিট ৮শ’ টাকা করে বিক্রি করে থাকে। বিষয়টি নিয়ে গত তিন দিন ধরে যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজন ভোর থেকে টিকিট সংগ্রহের জন্য লম্ব লাইন দিয়ে টিকিট না পেয়ে স্টেশনে মাস্টারসহ কর্মীদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়।
ভারত থেকে আসা নিখিল, রমেন,হিরোন জানায়, আমরা গত কয়েক দিন আগে ভারতে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য। শুক্রবার সকালে ৮টার দিকে আর্ন্তজাতিক ইমিগ্রেশনের কার্যবালী সম্পন্ন করি। এর পর ঢাকায় যাওয়ার জন্য বেনাপোল স্টেশনে এসে টিকিট ক্রয়ের জন্য লাইনে দাড়ায়। কিন্তু আমাদের সিরিয়াল আসতে আসতে জানতে পারি শিতাতাপ নিয়ণন্ত্রিত কক্ষের আর কোন টিকিট অবশিষ্ট্য নেই। অথচ আমরা তিনজন ছিলাম লাইনের প্রথম দিকে ৮ থেকে ১০ জন লোকের পিছনে। এর পর লাইন ছেড়ে স্টেশনের যাত্রী ছাউনি কিছু সময় দাড়িয়ে থাকি। এর মধ্যে একজন এসে নিজেকে আলতাফ হোসেন রেলের নিরাপত্তকর্মী পরিচয় দিয়ে আমাদের বলেন ৩টি এসির টিকিট আছে। আমার গেস্ট ঢাকায় যেতে চাইছিলো। তাই কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু তারা ঢাকায় ডেঙ্গুর কারণে যাবে না। চাইলে আপনি টিকিট তিনটি নিতে পারেন। কিন্তু প্রতিটি টিকিটের মুল্য পড়বে ১৮শ টাকা করে। পরে অনেক অনুনয় বিনুনয় করে তিনটি টিকিটে ৩শ টাকা কম দিয়ে আমরা টিকিগুলো ক্রয় করি ।
টিকিট কালবাজারী অভিযুক্ত  নায়েক আলতাফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি কাউকে উত্তর দিতে রাজি নয়।
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার সাইদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এখানে আমার করার কিছুই নেই। আমি তো যাত্রীদের মুখ দেখে দেখে টিকিট বিক্রি করি না। লাইনের সামনে যারা থাকা তারা টিকিট পায়। পিছনের লোক সিরিয়ালে আসতে আসতে যদি টিকিট শেষ হয়ে যায়, তাহলে আমার কি করার আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন স্টেশন এলাকার একশ্রেণির লোক টিকি ক্রয় করে রাখতে পারেন। পরে সেগুলো কালবাজারে উচ্চমুল্যে বিক্রি করতে পারেন। এ আশংষ্কায় আজ শুক্রবার থেকে ভোটার আইডি নাম্বারও মোবাইল নাম্বার দিয়ে ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। তবে টিকিট কাউন্টারের কোন লোক কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নয় বলে জানান এ কর্মকর্তা।
ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ