আজ শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে ভ্যাকসিনের লক্ষাধিক ডোজ বিনামূল্যে দেবে চীন

বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের এক লাখের বেশি ডোজ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনা সরকার। রাজধানী ঢাকার চার হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর ট্রায়াল চালানোর উদ্দেশ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক কোম্পানি। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

মূলত এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব বাড়ানো ও হারানো বন্ধুত্বকে আবারো অটুট করার জন্য এই ভ্যাকসিন রাজনীতি করছে চীন। সেই রাজনীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে দেশটি। শুক্রবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটিতে এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কথা। জাকার্তার সঙ্গে বেইজিংয়ের খারাপ সম্পর্ক অনেক দিন ধরে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের প্রেনিডেন্ট শি জিং পিং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোকে একটি ফোনালাপে আশ্বস্ত করে বলেছেন ‘ইন্দোনেশিয়ায় করোনা মহামারির বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীন এবং ভ্যাকসিনের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করতে চায় চীন।’

প্রেসিডেন্ট শি ফোনালাপে আরও বলেন, ভবিষ্যতে চীন ও ইন্দোনেশিয়া একত্রে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভ্যাকসিন কেনার জন্য ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোকে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে সাহায্যে করবে চীন।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) নির্বাহী পরিচালক জন ডি ক্লেমেন্সকে উদ্ধৃত করে টাইমসের প্রতিবেদনটি লিখেছে, ‘চীনা কোম্পানিটি বাংলাদেশকে এক লাখ ১০ হাজার ফ্রি ভ্যাকসিন ডোজ দিতে রাজি হয়েছে। যেটা দিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় চার হাজার ২০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে ট্রায়াল চালাবে।’

তবে এই পরিমাণকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য ‘খুবই কম’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে আইসিডিডিআরবি’কে। সংস্থাটি বলছে, খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল শুরু হবে।

ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বিভিন্ন গরিব দেশে তা বিতরণের মাধ্যমে চীন করোনা মহামারি পরবর্তী বিশ্বে বৈজ্ঞানিক নেতা হিসেবে আর্বিভাব হতে চায়।

বর্তমানে পাকিস্তানে চীনের দুইটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘পাকিস্তানের মানুষ চীনের ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী। তারা আমাদের জিজ্ঞেস করে কখন চীনের ভ্যাকসিন তৈরি হবে এবং কখন তারা হাতে পাবে।’

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবার উপরে চীন। তাদের চারটি ভ্যাকসিন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে আছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য