আজ শনিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পোষ মানানো শখ

শরীফ সাথীঃ আসরের নামাজ শেষে বৈকালী হাওয়ায় পাটাচোরা তীরধরা দ্বীপে আমার
প্রতিদিনই কাল্পনিক ও বাস্তবিক নদী তীরে বসা। প্রকৃতির মায়াময়
নিদারুণ ছোঁয়ার শোভা বিস্তার করে আছে সেই দেখে আসা অতীত থেকে
আজ অবধী। সবুজ শ্যামলের বিচরণ ক্ষেত্রে পাখির কলরব, নদীর কলতানে জেলে
মাঝির হাঁক ডাক। দৈনন্দিন দৃশ্যে গড়া চারিপাশ। এক ঝাঁক কবুতর উড়ে
যাওয়ার মুহুর্তে পাশে বসা কার্পাসডাঙ্গা বাজারের জীম ইলেকট্রনিক্স এর
মালিক মনিরুল স্মৃতি মেমরি খুলে বলল, ছোট্ট থেকেই আমার কবুতর
পোষা শখ। বিভিন্ন রকমের কবুতর। আমার শতেক কবুতরের একটি
ডিগবাজি মারা কবুতর ছিল। ঠিক আমার আয়ত্বে কবুতরটি পোষ
মেনেছিলো। হাত বাড়ালে আমার হাতে, কাধে ঘাড়ে এসে বসতো। দ্#ু৩৯;জনার
বন্ধুসুলভ আচরণ ভালোলাগা ভালোবাসার অকৃত্রিম বন্ধন। কবুতরটির খুবই
যতœ নিতাম। ব্যাবসায়িক কারণে সময় অল্প হলেও রোজ দুপুরে বাসায় খেতে
গিয়ে, কবুতরকে নিজ হাতে খাওয়াতাম। উপর আকাশে উড়াতাম এবং হাত
তালি দিলে অনবরত নানান ঢংয়ে কবুতরটি ডিগবাজি মারতো। আবার হাত
বাড়ালে নেমে এসে হাতে বসতো। পোষ মানানো ডিগবাজি খাওয়া
কবুতরটি দেখে অনেকেই খুব খুশী হতো এবং বলতো বাহ্ধসঢ়; পাড়ায় অমুকের
একটা পোষ মানা কবুতর আছে। আশেপাশের গ্রামে ডিগবাজি মারা
কবুতরের পাল্লা বা খেলার আয়োজন হলে আমার কবুতরটি সেরা বিবেচিত
হতো।
কবুতরটি আমার বসত ঘওে, ঘুরে বেড়াতো। শরষে, চাল, চালের গুড়া খেয়ে
খেয়ে ঘুরতো। মমতাময় মায়া জড়ানো কবুতরটি হঠাৎ করেই পাওয়া
যাচ্ছেনা। অনেক খোঁজাখুঁজি। কবুতর ঘরের সর্বদিক, বাড়ির আঙিনা,
পাড়া গ্রাম যারা কবুতর পোষে সবার বাড়ি খুঁজলাম। কোথাও পেলামনা।
ভাবলাম তাহলে কি কোন বিড়াল এসে কবুতরটি, না ভাবতেই পারছিনা।
বুকের স্পন্দন কেঁপে উঠছে। দিন রাত চিন্তা কি হলো তাঁর?
দিন চারেক পর ঘরের পিড়ির কোণে উপোড় হয়ে থাকা কাঠা তুলতেই
কবুতরটি ( আগেকার দিনে বেতের তৈরী কাঠা বা ধামায় চাল রাখা হতো
এবং কাঠায় মেপে হাড়িতে ভাত আকায় (চূলোয় )দেওয়া হতো ) । কবুতরটি
হয়তো কাঠার কান্দায় বসতে কাঠার নিচে চাপা পড়েছে। কাঠার নিচে
কতনা ঝাপট মেরেছে। কিভাবে বেরুনোর জন্য কতনা কষ্ট করেছে।
কবুতরটি কয়েকদিন কিছু না খেতে পেরে মাটিতে একেবারে চুপসে
গেছে। কোন রকম দিব দিব করছে জানটি। এমন দৃশ্য দেখে আমার চোখের
কোণে জলের বান এলো। কবুতরটি হাতে নিয়ে মাথায় পানি মুখে পানি
দিলাম। সে এতটায় দূর্বল হয়েছে যে, তাকে আর শত চেষ্টায়ও বাঁচাতে
পারলামনা। উনিশ বছরের পোষ মানানো একান্ত ভালোবাসার প্রিয় কবুতরটি
ধুকে ধুকে কয়েকদিন পর মারা গেলো। খুব খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তাকে

চিরদিনের মত হারিয়ে মনে হলে বেদনার দাবানলে আজো জ্বলি। আমি সে রকম
কবুতর আজ অবধী আর একটিও করতে পারিনি।
এমন সময় মনিরুলের চোখের কোণে জল দেখে আমি বললাম, হাসি কান্নার
মাঝেই জীবন চলেরে। আজ উঠা যাক আঁধার নেমে আসছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ