আজ রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চামড়া পাচার রোধে বেনাপোলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি।


মিলন হোসেন বেনাপোল।
ভারতে চামড়া পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি।নজরদারিতে আনা হয়েছে বন্দর এলাকাসহ স্থল ও রেলপথ ।সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।চলতি মাসের ১লা আগষ্ট থেকে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়।

এবছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ থেকে ৪০ টাকা । আর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ২৮ থেকে ৩২ টাকা। অপরদিকে ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ -১৫ টাকা প্রতি বর্গফুট। গতবছর এই চামড়ার দাম ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। একারনেই এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারতে চামড়ার দাম বেশী হওয়ায় সীমান্ত পথে পাচারের জন্য প্রতি বছর চেষ্টা  করে থাকে। এসব চামড়ার দুই একটি চালান আবার ধরাও পড়ে।

সুত্র মতে  বেনাপোল,পুটখালী, গোগা, কায়বা,অগ্রভুলোট, পাচভূলেট রুদ্রপুর,দৌলতপুর,  গাতিপাড়া, ঘিবা, সাদিপুর, বড় আঁচড়া, কাশিপুর, শিকারপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় খুচরা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অবশ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে মজুদ করে রাখছেন। তারা স্থানীয় বাজারে চামড়া না তুলে নিজস্ব কায়দায় তা সংরক্ষণ করে করছেন। এই চামড়া বাংলাদেশে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ পাশের দেশ ভারতে চামড়ার দাম অনেক বেশি। ফলে চোরাকারবারিরা চামড়া পাচারের চেষ্টা করবেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের চাহিদার মোট চামড়ার মধ্যে কোরবানি ঈদে প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করা হয়। বাকি অর্ধেক কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয় বছরজুড়ে। চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পশুর চামড়ার গুণগত মান উন্নত। প্রতিবেশী দেশের পশুর চামড়া তুলনামূলক নিম্নমানের হওয়ায় এদেশীয় চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ভারতে। চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে ওই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য মালামাল কিনে আনার চেষ্টায় থাকে। কোরবানি ঈদের সময় পশুর চামড়ার দাম বাস্তব সম্মতভাবে নির্ধারণ করা হলে পাচারের প্রবণতা কমে। পাশাপাশি স্বস্তিতে থাকেন ব্যবসায়ীরাও।

২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মুনজুর এলাহী বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি পোস্টে কড়া নজরদারি রয়েছে ।যাতে কেউ অবৈধভাবে দেশের অভ্যন্তর থেকে ভারতে চামড়া পাচার করতে না পারে। সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তগুলো চিহ্নিত করে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুধু চামড়া নয় অবৈধ পথে যে কোন পণ্য পাচার রোধে পুলিশ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। চামড়া পাচার সিন্ডিকেটের সদস্যরা যাতে পাচার না করতে পারে সেদিকে পুলিশের নজরদারী থাকবে।

প্রেরক
মিলন হোসেন বেনাপোল
তারিখ ০২/০৮/২০২০
মোবাইল ০১৭১২২১৭১৪৩

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য