আজ মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিআরটিসি বাস চলাচালে বাঁধা, যাত্রী দূর্ভোগ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার:  খুলনায় বিআরটিসি বাস চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করায় যাত্রী দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসি বাস (ব-১১-১৯২৩) খুলনার জিরো পয়েন্ট নামক স্থানে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পৌঁছালে জেলা বাস মালিক সমিতির পরিচয়দানকারী ৪/৫ ব্যক্তি উক্ত বাসটি প্রায় আড়াই ঘন্টা আটকে রাখে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস উদ্ধার করে।
খুলনার শিরোমনি বিআরটিসি বাস ডিপোর গাড়ির চালক আব্দুল আলিম অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্যেশে রওনা দিই, পথমধ্যে কৈয়া বাজার নামক স্থান থেকে ৪/৫ জন ব্যক্তি আমার গাড়িতে উঠে। হরিণটানা থানার জিরো পয়েন্ট মোড়ে এলে গাড়ি থামাতে বলে তখন গাড়ী থামানোর সাথে সাথে বাস মালিক সমিতির লোক বলে পরিচয় দেয়। এ সময় আরো কয়েকজন ব্যক্তি আমার নিকট রুট মারপিটের কাগজ চায়, তখন তাদের সাথে আমাদের বাকবিতন্ড হয় । তাঁরা হুমকি দিয়ে বলে “ এ রুটে গাড়ী চালাতে রুট মারপিট ও মালিক সমিতির অনুমতি লাগবে”। এক পর্যায় পুলিশের সহায়তায় আমাদের বাসটি ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে কথা হয় খুলনা বাস ডিপো ম্যানেজার (অপারেশন) মো. জমশেদ আলীর সাথে। তিনি জানান, ১৯৬১ সালের বিআরটিসি অধ্যাদেশ আইনে বাংলাদেশে কোথাও বিআরটিসি গাড়ী চালাতে কোন রুট পারমিট লাগে না। মালিক সমিতির কোন কাগজ দরকার হয় না। তবে মালিক সমিতি কেন আমাদের গাড়ী চলাচলে বাঁধা প্রদান করবে? তারা কি কোন অথোরেটি। এ ঘটনার আগেও আমাদের গাড়ী আরো কয়েকবার অবৈধভাবে আটকে রেখে চাঁদা দাবি সহ ড্রাইভার হেলপারদের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। গতকালকের ঘটনাটি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি, তবে ভবিষ্যতে আবারও যদি কেও বিআরটিসি গাড়ী চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে , অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কথা হয় খুলনা জেলা বাস,মিনি বাস,কোর্স মালিক সমিতির সহ সভাপতি মো.মিরাজ হোসোনের সাথে। তিনি দাবি করে বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। বিআরটিসির কোন গাড়ি আমাদের কেউ আটকে রাখে নি। তবে শুধু মাত্র জানতে চাওয়া হয়েছে, “আপনারা কোন সিস্টেমে এই রুটে গাড়ী চালান”। তিনি আরো বলেন, বিআরটিসি লিজ দিয়ে গাড়ী চালায়, তাঁরা (বিআরটিসি) ইচ্ছা মত গাড়ী চালায়, এতে আমাদের অসুুবিধা হয়। এমনকি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে আমাদের গাড়ী চালানো বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। এ সুযোগে তাঁরা (বিআরটিসি) গল্লামারি থেকে ইচ্ছামত যাত্রী বোঝায় করে।
তবে স্থানীয় জনৈক এক ব্যবসায়ি সোহরাব হোসেন বলেন, বিআরটিসি বাস চলাচলের জন্য ভাল সাধারন যাত্রীরা ভাল সেবা পাচ্ছে কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা যায় একটি সিন্ডিকেট বাস মালিক সমিতির পরিচয় দিয়ে সড়কে বিভিন্ন স্থানে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ