আজ শনিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খুলনায় ঋণ গ্রহীতাকে আঘাত করা মামলায় ছয় ব্যাংক কর্মকর্তার আগাম জামিন

খুলনায় প্রাইম ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা আগাম জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন পান। ঋণের টাকা আদায় নিয়ে মারধর ও জখমের ঘটনায় এক ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংক পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে। ঋণগ্রহীতার দায়ের করা মামলায় তারা জামিন পান।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত ছয় কর্মকর্তার আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।

ওসি মমতাজুল হক জানান, গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রাইম ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার নামে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ ও তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর ও জখমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। হামলার শিকার হয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন আছেন।

অপরদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণের দুটি কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য ঋণগ্রহীতা জাহিদুলের বাসার নিচে যান ব্যাংক কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় ওই গ্রহীতা তাদেরকে দোতলার বাসায় নেন ও একপর্যায়ে টাকা দেবেন না বলে জানান। একইসঙ্গে বাড়ির অন্য লোকজনের সহায়তায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন।

ঋণগ্রহীতা প্রগতি ফিশ এন্ড ফিড এর স্বত্বাধিকারী জাহিদুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘আমার মা দীর্ঘদিন আবু নাসের ও সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখনও বাসায় অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় রয়েছেন। মায়ের চিকিৎসা খরচ ব্যয়বহুল হওয়ায় আমি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি তাই কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে কিছুদিন সময় চাই। কিন্তু, তারা কোনও কথা না শুনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে তারা আমাকে টেবিলে থাকা কাচের জগ দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।’

প্রাইম ব্যাংকের লোন অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ ঋণগ্রহীতা জাহিদুল ইসলাম মুন্না লোন পরিশোধ করছেন না। ২৮ আগস্ট তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা তার বাসায় যাই। এ সময় তিনি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ম্যানেজার বদরুজ্জামানের ওপর চড়াও হন ও আঘাত করেন। এ অবস্থায় ধ্বস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভাঙা কাচে জগের ওপর পড়ে জাহিদুল ইসলাম আহত হন।

উল্লেখ্য, প্রগতি ফিস ফিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম আজাদ ওরফে মুন্না (৩৬) প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋনের দুই কিস্তি দিতে না পারার কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন। ২৮ আগস্ট সকাল ১০.৩০টার দিকে ডালমিল মোড়ের বিসমিল্লাহ মহল্লার মোল্লাবাড়িতে মুন্নার বাসায় যান প্রাইম ব্যাংকের লোন অফিসার বদরুজ্জামান মিলনসহ ৮ জন কর্মকর্তা। এ সময় মুন্নার সঙ্গে ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তা টেবিলে থাকা কাচের জগ দিয়ে মুন্নার মাথায় আঘাত করে। এতে গ্রাহক মুন্না তার বাঁ চোখে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মাথা কেটে যায়। এবং অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে থাকেন। পরে বাড়ির লোকদের চিৎকার-চেঁচামেচি আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন এসে ব্যাংক কর্মকর্তাদের চার জনকে আটকে পুলিশে হস্তান্তর করে। আর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মুন্নাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ