২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,সকাল ৭:৪১

খুলনার মশিয়ালীতে ট্রিপল মার্ডারের ব্যবহৃত অস্ত্র ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২০

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামের জাকারিয়া-জাফরিন ও মিল্টন বাহিনীর গুলিতে গ্রামের নিরীহ ৩ জন নিহত, ৮/৯ জন গুলিবিদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে হামলাকারীদের একজন নিহতের ঘটনায় গঠিত অনুসন্ধানী তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। ২২ জুলাই বুধবার সকাল থেকে সারা দিন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি মশিয়ালীর ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে। এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও হামলায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারিনি পুলিশ। গ্রেফতার হয়নি মামলার প্রধান আসামী জাকারিয়া জাকার ও তার ভাই মিল্টনসহ এজাহারভুক্ত ১৮ আসামী। অপরদিকে ট্রিপল হত্যা মালায় গ্রেফতারকৃত মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন হাসান, জাহাঙ্গীর, আরমান ও রহিম পুলিশি রিমান্ডে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে সুত্রে জানাগেছে।
মশিয়ালীর হত্যাকান্ডের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশিনার (অপরাধ) এস এম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে। তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শিপ্রা রাণী দাস গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনায় আহত কয়েকজন ১৬ জুলাই এর মর্মান্তিক হত্যাকান্ডসহ হত্যাকান্ডের ঘটনার নেপত্থের ঘটনার বর্ণনা দেন। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশিকিউশন) মোঃ আনোয়ার হোসেন এ সময় উাপস্থিত ছিলেন।
গ্রামবাসীদের সাক্ষাতকারে নানা রকম তথ্য উঠে এসেছে। হামলার স্বীকার গ্রামের মৃত আমজাদ শেখের পুত্র মোঃ আজাদ শেখ (৪০) এবং প্রত্যক্ষদর্শী কুদ্দুস শেখের পুত্র রফিক শেখ বলেন, গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন বাহিনীর কাছে জিম্মি থেকে বহু নির্যাতন, নিপিড়ন, হামলা, মামলা সহ্য করে বসবাস করে আসছিল। তাদের নির্যাতনের স্বীকার গ্রামের সাধারণ মানুষ আইন শৃংখলা বাহিনী বা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কারও সহযোগিতা পায়নি। এমন কি তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে মুহুর্তের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সকল ধরণের ব্যবস্থা নিতো জাকারিয়া গং।
মশিয়ালী গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলো ৩টি তাজা প্রাণ গুলি করে হত্যা এবং ৯/১০ জনকে গুলি করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় প্রধান আসামী জাকারিয়া, মিল্টন গ্রেফতার না হওয়ায় গ্রামবাসী এখন আতংকিত রয়েছে। অবৈধ আগ্নে অস্ত্রগুলি এখন উদ্ধার করতে না পারায় তাদের ক্ষমতা গ্রামবাসী বুঝতে পেরেছে।
তদন্তের বিষয়ে কমিটির সদস্য অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার বলেন, মূল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় খানজাহান আলী থানায় মামলা হয়েছে(মামলা নং-১২, তাং ১৮/৭/২০)। নিহত সাইফুলের পিতা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলায় খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়া হোসেন জাকার, তার ভাই মহানগর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন, অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী মিল্টনসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫/১৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করে । মামলায় গ্রেফতার ৪ আসামী রিমান্ডে রয়েছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • শেয়ার করুন