আজ শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

একজন ছিন্নমূল ভিক্ষুক দানবীর আবদুল খালেক

মোঃ মোসলেহ্‌উদ্দিন (তুহিন): একজন ছিন্নমূল নিঃস্ব ভিক্ষুক মোহাম্মদ আবদুল খালেক হাওলাদার । যিনি একের পর এক দান করে খুলনায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাড়িয়েছেন যাহা রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকের মনের মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কি এমন আয় তার ?
শনিবার সকাল ১০টায় ( ২১ নভেম্বর) খুলনা মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ লবণচরার মোক্তার হোসেন মেইন রোডের বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করার জন্য ৫০ বস্তা সিমেন্ট ক্রয় বাবদ নগদ বিশহাজার পাঁচশত টাকা মসজিদ কমিটির সভাপতি জনাব শামীমুর রহমান শামীম এর নিকট হস্তান্তর করেন এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এসময় মসজিদ কমিটি ও এলাকার গন্যমান্য লোক উপস্থিত ছিলেন । এ দানের কথা শুনা মাত্র শত শত লোক ভিড় করেন, এত বড় মানবিক গুণ সম্পূর্ন লোকটি এক নজর দেখার জন্য ।

আমাদের প্রতিবেদক ভিক্ষুক মোঃ খালেক হাওলাদার এর একটি সাক্ষৎ গ্রহন করেছেন। তা তুলে ধরা হলোঃ

প্রশ্নঃ চাচা আপনার নাম কি ?
উত্তরঃ আমার নাম আব্দুল খালেক হাওলাদার।

প্রশ্নঃ আপনি কোথায় থাকেন?
আমার থাকার কোন নিদৃষ্ট ঠিকানা নেই, আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় থাকি তবে বর্তমানে সোনা ডাঙ্গার খোড়া বস্তিতে একটি গ্যারেজে থাকি ।

প্রশ্নঃ আপনার বয়স কত ?
উত্তরঃ ৮৫ বছর ।

প্রশ্নঃ আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায় ?
উত্তরঃ আমার গ্রামের নাম ডংরা, থানা জিয়ানগর জেলা পিরোজপুর। সেখানে যাই না। নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার পর খুলনায় চলে আসছি ।

প্রশ্নঃ আপনার পরিবারে আর সদস্য কে কে আছে?
উত্তরঃ আমার স্ত্রী সাড়ে তিন বছর আগে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। তখন আমি ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতাম । বর্তমানে আমার পরিবারের কেহ নেই। একটি ছেলে আছে সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে কিন্তু আমাকে কোন পরিচয় দেয় না বলে তার সাথে আমি যোগাযোগ রাখি না। ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করি । তাই মনের অক্ষেপে আমার জমানো টাকা জীবিত অবস্থায় কেহকে না খাইয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করবো বলে প্রতিজ্ঞা করছি ।

প্রশ্নঃ আমরা জানতে পেয়েছি যে, আপনি এরআগেও অনেক টাকা বিভিন্ন মসজিদ এতিমখানায় দান করেছেন, এটাকা আপনি জোগাড় করেন কিভাবে ?
উত্তরঃ আমি করোনা প্রদূর্ভাবের আগের থেকে মসজিদ মাদ্রাসায় দান করবো বলে নিয়ত করি । তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিক্ষা করি এবং সেই টাকা থেকে খরচের পর জমা করে অবহেলিত বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজে আমি দান করে থাকি।

প্রশ্নঃ ভিক্ষা করে আপনি কি পরিমাণ টাকা মাসে ঝোগাড় করেন ?
উত্তরঃ আমি এটা ধারণা দিতে পারব না কারণ কখনো ভিক্ষা পাই, আবার কখনো পাই না, যখন যেভাবে যতটুকু পাই নিজে খরচ করি এবং দানের জন্য জমা করি।

প্রশ্নঃ আপনি এর আগে আর কোথায় দান করেছেন ?
উত্তরঃ আমি এর আগে পাইকগাছার সোলাডাঙ্গা গজালিয়া এলাকার একটি এতিমখানা মাদ্রাসা এক হাজার টাকা দিয়েছি, এছাড়া গত ১৩ নভেম্বর সোনাডাঙ্গা আবাসিকে ছানিয়াতুল জামে জসজিদে হাজার টাকা দিয়েছি।

প্রশ্নঃ আপনি ভবিষ্যতে আর কোন মসজিদ মাদ্রাসায় দিবেন এরকম কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
উত্তরঃ জি আমি সোনাডাঙ্গার খোড়া বস্তির অবহেলিত একটি জামে মসজিদে বিশহাজার টাকা দান করার আশা রাখছি।

প্রশ্নঃ আমাদের সমাজের মানুষের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ কি ?
উত্তরঃ আমার কস্ট হয়, যখন দেখি ধনী লোকেরা গরিবদের কস্ট বুঝে না । অবহেলিত মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার অসহায় এতিমদের বিত্তবানরা সহযোগিতায় করলে তারা দো-জাহানে সওয়াব হাসিল করতে পারবে তাই সকল সমার্থ্যবান সম্পন্ন ব্যক্তিরা এসমস্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি ।

প্রশ্নঃ বর্তমানে আপনার শারীরিক অবস্থা কি ?
উত্তরঃ ডায়াবেটিকস ও বাত ব্যথার কারণে আমি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারি না ।

প্রশ্নঃ রাতে আপনি কোথায় থাকেন?
উত্তরঃ আমার একটি চারিদিকে পলিথিন ঘেরা ভ্যান গাড়ি আছে, সেটা তেমন ভালো না । রাতে সে ভ্যানে ঘুমাই।

প্রশ্নঃ বর্তমানে আপনার কাছে কত টাকা জমানো আছে ?
উত্তরঃ আমার ভাইপো’র এই বাজারের চায়ের দোকানদার সহিদের কাছে আশি হাজার টাকা আমার জমানো টাকা ছিল সেখান থেকে আজকে চল্লিশ হাজার টাকা নিয়েছি যার মধ্যে বিশ হাজার টাকা আজকে আপনাদের এলাকায় দিলাম আর বিশ হাজার সোনাডাঙ্গার খোড়া বস্তির অবহেলিত একটি জামে মসজিদে দিবো।

চাচা আপনার মত একজন অসহায় গরীব লোক এইভাবে দান করছেন, এটা দেখে এলাকার মানুষ অবিভূত আপনাকে সবাই মনের বাদশা দানবীর হিসাবে অত্র এলাকার জনগন এই খেতাবে ভূষিত করল। আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি । আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন । আমাদেরকে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ

ফেসবুকে দৈনিক তথ্য