আজ মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া অজ্ঞান- মলম পার্টি

আহাদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার: ঈদকে সামনে রেখে অজ্ঞান-মলম পার্টির তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে। বাস-লঞ্চ-ট্রেন টার্মিনালসহ জনাকীর্ণ স্থানে হকার সেজে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে থাকে তারা। আর এসব খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে চেতনানাশক ওষুধ। ফলে এগুলো খেলেই মাশুল দিতে হচ্ছে। চেতনানাশক ওষুধের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি পড়লে ভিকটিম মারাও যেতে পারে, আবার কেউবা স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে নাও পারে। ঈদকে সামনে রেখে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। এদেরকে আটক করেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। গ্রেফতার করা হলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে সক্রিয় থাকে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সহজ-সরল মানুষকে লক্ষ্য করে ফেরিওয়ালা সেজে জুস, ডাবের পানি, খেজুর, ঝাল মুড়ি, শরবতসহ নানা
উপকরণ বিক্রি করে থাকে। আর এই সব খেয়ে প্রতারিতদের কাছে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি জীবন হারানোর মতো ঝুঁকিতে পড়ছেন। ঈদের সময় প্রায় প্রতিদিনই অজ্ঞান ও মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে থাকে সাধারণ মানুষ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে‌ থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তারা অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করছে বলেও দাবি পুলিশের । পুলিশ বলছে, ঈদকে টার্গেট করে অজ্ঞান ও মলম পার্টির চক্র সক্রিয় হয়ে থাকে। তারা যাত্রী ও হকার বেশে যাত্রীদের অজ্ঞান করে সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৯/০৭/১৯নগরীর লবণচরা থানা এলাকায় চালককে পিটিয়ে আহত করে ইজিবাইক ছিনতাইকালে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে একজন পালিয়ে যায়।
জানায়, রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় একটি ইজিবাইক গল্লামারী থেকে রূপসা ব্রিজে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়। এরপর পৌনে ৪টায় জিরোপয়েন্ট টু রূপসা ব্রিজ মহাসড়কস্থ জব্বার সড়কের মাথায় পৌঁছানো মাত্র আসামিরা ওই ইজিবাইকটি থামাতে বলে। পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আসামি হৃদয় তার হাতে থাকা গুল ইজিবাইক চালক মোঃ রাকিব তালুকদার (১৮) এর চোখে ছুঁড়ে মারে এবং আসামি রাসেল তার হাতে থাকা ছোট সূঁচালো রড দ্বারা ইজিবাইক চালকের পিঠে আঘাত করে জখম করে। আসামিরা ইজিবাইক চালককে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে জখম করে। ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ময়লাপোতা রাহেলা বস্তি এলাকার কবির হোসেনের পুত্র মোঃ হৃদয় হোসেন (২০) ও লবণচরা মোহাম্মদনগর এলাকার মৃত হাসেন শেখের পুত্র মোঃ রাসেল শেখ (১৮) ধরা পড়ে। ওই সময় ময়লাপোতা রাহেলা বস্তি এলাকার ছেলে আসামি মোঃ নয়ন (২০) কৌশলে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।
এদিকে ইজিবাইক চালক ইমরান মোড়লকে খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড় থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে ফুলবাড়িগেট যাওয়ার পথে ইজিবাইক ভিতরে বিস্কুট খাইয়ে অজ্ঞান করার চেষ্টা করে। ইমরান আত্মচিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ইমরান বাড়ি ফিরে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ্য হয়। ইমরানের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশের কাছে যাই নি।
অপরদিকে প্রবাসী রেজাউল করিম রূপসায় আত্মীয়দের বাসা থেকে বাড়িতে আসার পথে অজ্ঞান-মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে একটি আইফোন সহ নগদ ২০০০০ টাকা নিয়ে যাই। একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ২ দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা যাত্রীবেশে বাস, লঞ্চ ও রেলগাড়িতে ক্যানভাসার এবং সাধারণ যাত্রী বেশে উঠছে। চলন্ত বাস, লঞ্চ ও রেলগাড়িতে অবস্থানরত যাত্রীদের টার্গেট করে কৌশলে নেশাজাতীয় উপাদান খাইয়ে অচেতন করে। পরে সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অচেতন ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। অনেক সময় নেশাজাতীয় উপাদানের মাত্রা বেশি হলে অচেতন ব্যক্তি মারাও যায়। ঈদের আগে থেকেই এদের অপতৎপরতা রুখতে গোয়েন্দারা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে নেমেছে।
কেএমপি মুখপাত্র মো. মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, ঈদকে সামনে রেখে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা তৎপর না হতে পারে সেদিকে নজর দারি বাড়ানো হয়েছে।গলা কেটে নিয়ে যাওয়া কিংবা ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে কুচক্রী মহল এসব গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রেখে অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত করার পাঁয়তারা করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যানবাহনের যাত্রী বা পথচারীদের উচিত অপরিচিত কারও দেওয়া কিছু না খাওয়া।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ