আজ শনিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইবির মেগা প্রকল্পের বাজেটে কালো থাবা প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর আসকারী প্রশাসন

তারিক সাইমুম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মেগা প্রকল্পে বাজেটের উপর একটি কুচক্রী মহলের কুনজর পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মেগা প্রকল্পের বাজেট নিয়ে কেউ যাতে দুর্নীতি করতে না পারে সে জন্য সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে ছাত্রলীগ। একটি অশুভ সংকেত পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের একাংশ দলীয় টেন্ট থেকে একটি দুর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা তৌকির মাহফুজ মাসুদ,জোবায়ের আল মাহমুদ,ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও মিজানুর রহমান লালন কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে। মিছিলে “দুর্নীতির কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নাই, হৈ হৈ রৈ রৈ দুর্নীতিবাজরা গেলি কই” স্লোগান দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে মিছিল শেষ করে। পরে তারা সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে।

জানা যায়, সাম্প্রতি সাংবাদ মাধ্যমে ”ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মেগা প্রকল্পের চাপে অব্যাহতির আবেদন প্রধান প্রকৌশলীর” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ছাত্রলীগের দাবি মেগা প্রকল্পের কাজ পাওয়াকে কেন্দ্র করে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান প্রকৌশলীকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর কারণে তিনি অব্যহতির আবেদন করেছেন। তার উপরে চাপ প্রয়োগ করে ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও চরমপন্থী নেতারা হুমকি দিচ্ছে এবং একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ শিক্ষক এর সাথে জড়িত থেকে মেগা প্রকল্পকে কলঙ্কিত করার পরিকল্পনা করছে। বাহিরে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে তবে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া এ সুযোগ পাবেনা। এ সকল দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের সনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়ে মিছিলি বের করেছে বলে একাধিক ছাত্রনেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কোন কোন শিক্ষক দুর্নীতির সাথে জড়িত এ বিষয়ে তারা কিছু বলেনি কিন্তু উপাচার্য বা প্রশাসনের কাছের কয়েকজন এর সাথে জড়িত আছে বলে জানায় তারা।

ছাত্রলীগের সাথে সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন,
যদি কখনো কেউ আমার বিরুদ্ধে ৫ পয়সার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারে তাহলে সাদা কাগজে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে চলে যাবো। তিনি আরো বলেন, আমি দুর্নীতি করি না। আমাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করার চেয়ে, খড়ের গাদায় সূঁচ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। দায়িত্ব গ্রহনের পর আমার আশে পাশের কারো দুর্নীতি প্রমাণ হয়েছে অথচ শাস্তি দেয়া হয়নি এমনটি কখনো হয়নি। আমার সময়ে গত তিন বছরে ৩৭ জন কে শাস্তি দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো উপাচার্য দুর্নীতিবাজদের এতো শাস্তি দেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, ছাত্রলীগের সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকও আমাকে হুমকি দেননি তবে কোনো কাজ করতে গেলে বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে। আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছি।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ