আজ মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল

বল দখলের লড়াইটা প্রায় সমান সমান হলেও দারুণ সব আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনাই। দুই দুইবার তো বার পোস্টও কাঁপাল তারা। কিন্তু কাজের কাজটি করতে পারেনি।

অন্যদিকে স্বল্প সুযোগ পেলেও তার নিখুঁত ফিনিশিং দিয়েছে ব্রাজিল। ফলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল জেসুস-রোবার্তো ফিরমিনোর গোলে ঘরের মাঠে আলবিসেলেস্তাদের ২-০ গোলে হারিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দুদল। যদিও বল নিয়ন্ত্রনে আর্জেন্টিনার তুলনায় এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম সাফল্য পায়।

ম্যানসিটি তারকা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের দুর্দান্ত গোলটি করে দলকে এগিয়ে দেন। মাঝ মাঠ থেকে দানি আলভেসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রনে নিয়ে রবার্তো ফিরমিনো এগিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে নিয়ে যান এবং গোল পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জেসুসের কাছে পাস দিলে পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জ্বালে এই ম্যানসিটি তারকা।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে গোলের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিকে কাসেমিরো ফাউল করে ফ্রি-কিক পায় কোপায় ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা! ঠিক ঠাক শটটি নিয়েছিলেন মেসি; দুর্ভাগ্য গোল পোস্টের একটু উপর দিয়ে বলটি ভেদ করে! এরপর ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে আরও একটি ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। এতে ১-০ গোলে পছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। দুর্ভাগ্য মেসির দুর্দান্ত শট গোল পোস্টে লেগে ফিরে আসলে বেঁছে যায় ব্রাজিল। অবশ্য এর আগের মিনিটে বার্সা তারকা ফিলিপ কৌতিনহো আর্জেন্টিনার জ্বালে সহজ একটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কারো থেকে কারো কম ছিল না! মাঝে মাঝে আর্জেন্টিনার দুর্বল ডিফেন্স লক্ষ্যনীয় ছিল। তবে ফ্রি-কিক থেকে মেসি গোল করার আরও একটি সুযোগ পায়। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে নিজেই ফাউলের শিকার হলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শট নিলেও লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসনের অবদানে বেঁচে যায় আটবারের চ্যাম্পিয়নরা!

যখনই আর্জেন্টিনার গোল মুখে ব্রাজিল এগোতে থাকে ঠিক তখনই দেখা যায় তাদের দুর্বল ডিফেন্স! এই সুযোগকে কাজেও লাগায় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে ফিরমিনোর গোলে ব্যবধান দিগুন করেন ব্রাজিল।

জেসুসের করা প্রথম গোলে অবদান ছিল ফিরমিনোর; ঠিক পরের গোলটিতে আগের অবদান রাখেন জেসুস; মনে হয় যেন একে অন্যের দেনা-পাওনা মেটালেন! আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে ভাঙে ছুরে খুব সহজে ফিরমিনোকে দিয়ে গোলটি করান জেসুস। প্রতিপক্ষ কেবল চেয়ে চেয়ে দেখলেন।

২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন ব্রাজিলের হাতে তখক গেল শোধে মরিয়া আর্জেন্টিনা চোটে বসলেন ব্রাজিলের ওপর। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে মার্তিনেজ ফিরমিনোকে ফাউল করলে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। যেখানে মাঠে ঢুকে পড়েন মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালোনি; রেফারী তাকেও হলুদ কার্ড দেখায়!

বার্সার হয়ে ফ্রি-কিক থেকে গোলের অভাব নেই মেসির। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এই ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে ফের ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ব্রাজিলের জমাটবাঁধা রক্ষন ভাঙতে পারেননি মেসি। মাত্র ২০ গজ দূরে থেকে শটটি নিয়েছিলেন মেসি।

শেষের দিকে গোল শোধ তো দূরে থাক ব্রাজিলের আক্রমণ সামলাতেই বেস্ত ছিল আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা। কিন্তু গোল করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে ২-০ গোলেই শেষ হয়ে কোপার প্রথম সেমি-ফাইনাল। আগামী ৭ জুলাই ফাইনালে খেলবে ব্রাজিল; তাদের প্রতিপক্ষে হতে পারে- পেরু অথবা চিলি।

 

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ